সততার কণ্ঠ, তথ্যের শক্তি

Wednesday, April 15, 2026

ব্রেকিং নিউজ

গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, উদ্বিগ্ন ডেনমার্ক ও ন্যাটো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড চায় এবং “একভাবে না একভাবে” তা নিয়ন্ত্রণে নেবে। তার মতে, ওয়াশিংটন যদি গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা না নেয়, তবে রাশিয়া বা চীন সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়টি অর্থের প্রশ্ন নয়। তিনি দাবি করেন, “আমরা সহজ পথে চুক্তি করতে চাই, কিন্তু তা না হলে কঠিন পথেও যেতে হতে পারে।” কেন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিক হতে চায়—এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “যখন আপনি কোনো জায়গার মালিক হন, তখন আপনি সেটিকে ভালোভাবে রক্ষা করেন। লিজ নিলে সেই প্রতিরক্ষা হয় না।”

এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত। ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত বছর মার্চে বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ড স্বাধীনতা লাভের পর শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দিতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে না।

তবে চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস রয়টার্সকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে জানায়, “সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প সবসময়ই থাকে।” এরপর ৭ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে গ্রিনল্যান্ড কেনার সম্ভাবনা নিয়ে সক্রিয় আলোচনা চলছে।

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার আওতায় সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দ্বীপটি রক্ষার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তায়।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ন্যাটোও তৎপরতা বাড়িয়েছে। পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে ন্যাটো দুই ধাপের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। ব্রাসেলসে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ন্যাটো রাষ্ট্রদূতরা আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো, অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন এবং সামরিক মহড়া জোরদারের প্রস্তাব দেন। উদ্দেশ্য হলো—ট্রাম্পকে দেখানো যে অঞ্চলটি ইতোমধ্যে যথেষ্ট সুরক্ষিত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যেও ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আগে এসব হুমকিকে ততটা গুরুত্ব না দিলেও এখন ইউরোপীয় দেশগুলো সম্ভাব্য সরাসরি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতির কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে পলিটিকো।

spot_imgspot_img

সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ

বিএনপি প্রার্থী কাইয়ুমের প্রার্থিতা বহাল: এনসিপির নাহিদ ইসলামের রিট খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি...

ভোটের কাউন্টডাউন শুরু: আমরা কি সত্যিই প্রস্তুত?

ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনের আর এক মাসেরও...

পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘ সংস্থার ওপর নজিরবিহীন হামলা, UNRWA ভবন বুলডোজার দিয়ে ভাঙল ইসরায়েল

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNRWA-এর...

গাজা ‘বোর্ড অব পিস’-এ বিতর্কিত টনি ব্লেয়ারকে নিয়োগ দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন তদারকির...
spot_img

এই সপ্তাহে আলোচিত

spot_img
spot_imgspot_img