যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (Immigration and Customs Enforcement- ICE) -এর এক অভিযানের সময় ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নামের এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার মিনিয়াপোলিসসহ নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, সিয়াটল, টেক্সাস ও ফ্লোরিডাসহ বহু শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সংস্থাটির (আইস) কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
রেনি গুড মিনিয়াপোলিসের একটি আবাসিক এলাকায় নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় এক আইস কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন। আইস ও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন, কারণ গুড নাকি গাড়িটিকে “অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার” করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন, রাজ্য কর্মকর্তারা এবং বিক্ষোভকারীরা এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে আইসের আত্মরক্ষার দাবি সরাসরি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন।
ঘটনার পর প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ এবং আইস কর্মকর্তার নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিও নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। অনেক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সাবেক ফেডারেল কর্মকর্তা বলেছেন, ভিডিওতে এমন স্পষ্ট প্রমাণ নেই যে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ অনিবার্য ছিল। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উপায় ব্যবহার করা হয়নি।
শনিবার মিনিয়াপোলিসের পাউডারহর্ন পার্ক থেকে শুরু হওয়া বিশাল মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভকারীরা “ICE Out”, “Justice for Renee” এবং “End the Raids” স্লোগান দেন। আয়োজক সংগঠনগুলোর দাবি, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে নন, বরং আইসের ক্ষমতার অপব্যবহার, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন।
এদিকে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য ও হেনেপিন কাউন্টির কর্মকর্তারা রেনি গুডের মৃত্যুর ঘটনায় একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) তদন্তের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় রাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রমাণে পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
রেনি গুড ছিলেন তিন সন্তানের মা এবং একজন মার্কিন নাগরিক। পরিবার ও বন্ধুদের ভাষায়, তিনি ছিলেন শান্ত, সৃজনশীল ও সহানুভূতিশীল মানুষ। তার মৃত্যু মিনিয়াপোলিসে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আবারও উসকে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে নতুন করে জাতীয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



