ইউক্রেনের সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে তাদের অবস্থান “উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ” হয়েছে। তীব্র লড়াইয়ের পর ইউক্রেনীয় বাহিনী পাঁচটি গ্রাম থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। রুশ বাহিনী সেখানে প্রায় ২,০০০টি আর্টিলারি শেল নিক্ষেপ করে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।
ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দার সিরস্কি জানান, রুশ বাহিনী কুয়াশা ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনীয় অবস্থানের মাঝে অনুপ্রবেশ করেছে, যদিও এতে রাশিয়ারও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার ভাষায়, “আমাদের ভূমির প্রতিটি মিটার রাশিয়ার শত শত সেনার প্রাণমূল্য নিচ্ছে।”
এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা জাপোরিঝিয়ার উস্পেনিভকা গ্রাম দখল করেছে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পোকরোভস্ক ও উত্তর-পূর্বের কুপিয়ানস্ক শহরে অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে। পোকরোভস্ককে রুশ গণমাধ্যম “ডনেতস্কের প্রবেশদ্বার” হিসেবে বর্ণনা করছে, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি খেরসন অঞ্চলের সফরে বলেন, পোকরোভস্ক ও জাপোরিঝিয়ার পরিস্থিতি “কঠিন”, আংশিকভাবে আবহাওয়া রুশ আক্রমণকে সুবিধা দিচ্ছে। তবে কুপিয়ানস্কে ইউক্রেন কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে পোকরোভস্ক ঘিরে রাখার চেষ্টা করছে। ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১,৫০,০০০ রুশ সেনা মোতায়েন রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে জনবল ঘাটতি ও রুশ ড্রোনের আধিপত্য ফ্রন্টলাইনের দুর্বলতার মূল কারণ।
সুইডেনের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষক মারিয়া এনগকভিস্ট বলেন, “পোকরোভস্ক দখল রাশিয়ার জন্য শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় প্রতীকী সাফল্য হবে।” তিনি সতর্ক করেন, শহরটি হারালে রাশিয়া ক্রামাতোরস্ক বা স্লোভিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হতে পারবে।
অন্যদিকে ফিনল্যান্ডের ব্ল্যাক বার্ড গ্রুপের বিশ্লেষক এমিল কাস্তেহেলমি মনে করেন, পোকরোভস্ক পতন হলেও ইউক্রেনের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়বে না, তবে “দক্ষিণ-পূর্বে রুশ অগ্রগতি ঠেকানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।”
ইউক্রেনের জনবল সংকটও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। যুদ্ধের চতুর্থ বছরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ নিয়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বহু তরুণ দেশত্যাগ করছে, যা ফ্রন্টলাইনের শক্তি আরও দুর্বল করছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে আছে যেখানে তারা রুশ অগ্রগতি পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না, শুধু ধীর করতে পারছে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো – সৈন্যসংখ্যা ধরে রাখা ও রুশ বাহিনীর ধীরে ধীরে এগিয়ে আসা রোধ করা।



