যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর ব্যর্থতার কারণে রাশিয়ার দুই বৃহত্তম তেল কোম্পানি রসনেফট (Rosneft) ও লুকওয়েল (Lukoil)–এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম নিষেধাজ্ঞা।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর চাপ বাড়ানো এবং ক্রেমলিনের যুদ্ধ অর্থায়নের সক্ষমতা দুর্বল করা। নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এই দুই কোম্পানির সম্পদ ফ্রিজ করা হবে এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে স্থগিত বৈঠক প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “সময়টা ঠিক মনে হয়নি। আমরা ভালো কথা বলি, কিন্তু অগ্রগতি হয় না।” তিনি আরও জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠকে রুশ তেল কেনা নিয়েও আলোচনা করবেন।
রসনেফট ও লুকওইল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। রসনেফট ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে আগের বছরের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম মুনাফা করেছে, আর লুকওয়েলের মুনাফা কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
একই দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের ১৯তম রাশিয়া-বিরোধী নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে রুশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা। স্বল্পমেয়াদি এলএনজি চুক্তি ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিষিদ্ধ হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রধান সহযোগী আন্দ্রিই ইয়ারমাক বলেন, “যত কম অর্থ রাশিয়ার হাতে থাকবে, তত কম ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পড়বে।”
নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, যেসব বিদেশি ব্যাংক রসনেফট বা লুকওইলের সঙ্গে লেনদেন চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।



