যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার স্বার্থে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন। দ্য আটলান্টিক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন— একেবারেই প্রয়োজন। প্রতিরক্ষার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে “রাশিয়া ও চীনের জাহাজে পরিবেষ্টিত”, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে, আর্কটিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে গত ২২ ডিসেম্বর ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেন হাওয়ারিকে তলব করে। কারণ, ট্রাম্প লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ডবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ট্রাম্প বলেন, ল্যান্ড্রি “গ্রিনল্যান্ড আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।”
এর আগে ১৩ মার্চ ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে সংযুক্ত করবে। ৪ মার্চ তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দিতে চাইলে তিনি তা সমর্থন করবেন। একাধিকবার তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার কথা বলেন এবং ডেনমার্ক রাজি না হলে উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন। এমনকি তাঁর প্রথম মেয়াদেও গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয়ই প্রত্যাখ্যান করে।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৫১ সালে ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেন ন্যাটোর মিত্রতার পাশাপাশি ‘গ্রিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে কোনো আগ্রাসন হলে যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



