মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন তদারকির জন্য গঠিত নতুন সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ ইরাক যুদ্ধের কারণে ব্লেয়ারকে অনেকেই যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন।
সাত সদস্যের এই বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন ট্রাম্প নিজেই। বোর্ডে আরও রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। গাজার জন্য উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্য সমন্বয়কারী নিকোলাই ম্লাদেনভ।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বোর্ডটি গাজার স্থিতিশীলতা, শাসন সংস্কার, অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদারকি করবে। বোর্ডের অধীনে ১৫ সদস্যের একটি ‘টেকনোক্র্যাটিক’ ফিলিস্তিনি কমিটিও কাজ করবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন সাবেক ফিলিস্তিনি উপমন্ত্রী আলি শাথ।
তবে এই কমিটি গঠনের বিষয়ে ইসরায়েল তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় না করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা তাদের নীতির বিরুদ্ধে।
এদিকে মিসর, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা ও কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশকে বোর্ডে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কানাডা ও আর্জেন্টিনা ইতিবাচক সাড়া দিলেও মিসর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে।
টনি ব্লেয়ারের নিয়োগ বিশেষভাবে সমালোচিত হচ্ছে তার অতীত ভূমিকার কারণে। প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি, তার প্রতিষ্ঠিত টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট বিভিন্ন কর্তৃত্ববাদী সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজায় মানবিক পরিস্থিতি চরম সংকটপূর্ণ। শীত, বৃষ্টি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোর কারণে বহু বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি দুর্ভোগে রয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শীতজনিত কারণে শিশুদেরসহ বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।



