যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তর করবে। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থের নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে।
ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে যে তেল মজুত অবস্থায় রয়েছে, সেটিই বিশেষ জাহাজের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এনে পরিশোধন ও বিক্রি করা হবে। তিনি বলেন, এই অর্থ ভেনেজুয়েলার জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। পরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হন। ট্রাম্প এর আগে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ “ফিরিয়ে নেওয়ার” প্রতিশ্রুতি দেন এবং দেশটির জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের কথা বলেন। তবে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর কোনো মালিকানা দাবি নেই।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল বৈশ্বিক বাজারে খুব বড় প্রভাব ফেলবে না। বিশ্বে দৈনিক তেল চাহিদা ১০ কোটির বেশি ব্যারেল, আর যুক্তরাষ্ট্র একাই দিনে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। বিশেষজ্ঞ মার্ক ফিনলি বলেন, কত সময়ের মধ্যে এই পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হবে, সেটিই প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ১৯৯০-এর দশকের স্তরে ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও বহু বছর সময় লাগবে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে একসময় বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদক দেশগুলোর একটি ভেনেজুয়েলার তেল খাত এখন মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জোর দিয়ে বলেছেন, দেশটি কোনো বিদেশি শক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ঘিরে আইনগত বৈধতা ও রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।



