চীনা মালিকানাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ (জয়েন্ট ভেঞ্চার) চুক্তি করেছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক। গত সপ্তাহে টিকটক এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
টিকটকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শৌ চিউ কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় জানান, টিকটকের মূল মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স এই চুক্তি অনুমোদন করেছে। নতুন যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি ওরাকল, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিলভার লেক এবং আবুধাবিভিত্তিক এমজিএক্স প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে থাকছে।
বার্তায় শৌ চিউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গঠিত নতুন প্রতিষ্ঠানে বাইটড্যান্সের বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার ধারণ করবে। এছাড়া বাইটড্যান্স সরাসরি প্রায় ২০ শতাংশ মালিকানা রাখবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা।
এই উদ্যোগটি মূলত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে পাস হওয়া ২০২৪ সালের এক আইনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ওই আইনে বাইটড্যান্সকে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম বিক্রি করতে বলা হয়, অন্যথায় দেশটিতে অ্যাপটি নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
মার্কিন নীতিনির্ধারকরা, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্সির সময় থেকেই, টিকটক নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাঁদের আশঙ্কা, চীন সরকার টিকটকের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে কিংবা অ্যাপটির শক্তিশালী অ্যালগরিদম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তী সময়ে একাধিক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের সময়সীমা পিছিয়ে দেন। সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় আগেই জানানো হয়েছিল, নতুন এই যৌথ উদ্যোগটি ২০২৪ সালের আইনের শর্ত পূরণ করবে। চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিষ্ঠানটি ডেটা সুরক্ষা, অ্যালগরিদম নিরাপত্তা, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং সফটওয়্যার যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করবে।
তবে বৈশ্বিক পণ্য ব্যবস্থাপনা, ই-কমার্স, বিজ্ঞাপন ও বিপণনের মতো কিছু বাণিজ্যিক কার্যক্রম টিকটক গ্লোবালের অধীনে থাকবে বলে জানান শৌ চিউ। এই ইউনিটটি ভবিষ্যতে বাইটড্যান্সের মালিকানায় থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বড় বাধা কাটিয়ে উঠতে পারে, যদিও চীনা সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।



