ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন নগরী শাহর-ই সুখতেহ (দ্য বার্ন্ট সিটি) থেকে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম চোখ আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বছর পুরোনো এই কৃত্রিম চোখ মানব সভ্যতার চিকিৎসা ও নান্দনিক জ্ঞানের এক অনন্য নিদর্শন।
ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এই প্রত্নস্থলটি ইরানের সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশে, জাবোল শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শাহর-ই সুখতেহের ইতিহাস প্রায় ৫ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো বলে ধারণা করা হয়।
প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় একটি কবর থেকে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক নারীর কঙ্কালের সঙ্গে এই কৃত্রিম চোখটি পাওয়া যায়। চোখটি তাঁর বাম চোখের কোটরে স্থাপন করা ছিল, যা হাজার হাজার বছর পেরিয়েও আশ্চর্যজনকভাবে অক্ষত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কৃত্রিম চোখটি সম্ভবত প্রাকৃতিক বিটুমেন ও কোনো প্রাণীর চর্বি মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছিল, যদিও এর উপাদান সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই কৃত্রিম চোখটির নকশা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও শৈল্পিক। চোখের ভেতরের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র রক্তনালির মতো অংশগুলো অর্ধ মিলিমিটারেরও কম পুরু সোনার তার দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মাঝখানে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত পিউপিল এবং তার চারপাশে হীরকাকৃতির মতো সমান্তরাল রেখা খোদাই করা রয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে প্রাচীন ইরানি সভ্যতা শুধু প্রযুক্তিগতভাবেই নয়, চিকিৎসা ও শিল্পকলায়ও অত্যন্ত অগ্রসর ছিল। শাহর-ই সুখতেহ নামকরণের পেছনে একাধিক তত্ত্ব থাকলেও অধিকাংশ গবেষকের মতে, মাটিতে পাওয়া ছাইয়ের স্তর ইঙ্গিত দেয় যে নগরীটি অতীতে একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছিল—যার প্রকৃত কারণ আজও রহস্য।
বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম চোখের এই আবিষ্কার মানব ইতিহাসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রাচীন অধ্যায়কে নতুনভাবে আলোকিত করেছে।



