যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণকে তারা জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে এবং এ লক্ষ্য পূরণে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অবস্থান ইউরোপ ও কানাডার নেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানায়, “বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে এবং কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সুযোগ সবসময়ই রয়েছে।”
এই বক্তব্যের পরপরই ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন ও পোল্যান্ডের নেতারা ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। এর সার্বভৌমত্ব প্রশ্নাতীত।” কানাডার প্রধানমন্ত্রীও গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর ঘোষণা দেন।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকিমূলক ভাষা পরিহার করে সম্মানজনক সংলাপের আহ্বান জানান। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির কোনো প্রশ্নই নেই। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে চীনা বা রুশ যুদ্ধজাহাজে ভরে আছে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয় এবং ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।
নাটো জোটের ভেতরেও এ ইস্যু উদ্বেগ তৈরি করেছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেন, কোনো ন্যাটো সদস্যকে হুমকি দিলে জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসে জানান, গ্রিনল্যান্ডে তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নেই এবং মূল লক্ষ্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান, বিরল খনিজ সম্পদ এবং নতুন আর্কটিক নৌপথের সম্ভাবনা এই উত্তেজনার মূল কারণ। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে—গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বাইরের কোনো চাপ গ্রহণযোগ্য নয়।



