গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে দেওয়া হুমকির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধি দল এই সপ্তাহে ডেনমার্ক সফরে যাচ্ছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় বিষয়টি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস কুনস। তার সঙ্গে রয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস, ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জিন শাহিন ও ডিক ডারবিন, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন সদস্য। কুনসের দপ্তর জানিয়েছে, প্রতিনিধি দল শুক্রবার ও শনিবার কোপেনহেগেনে অবস্থান করবে।
মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারা সম্প্রতি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একতরফাভাবে গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টা ঠেকাতে সিনেটে আইন আনার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেছেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক উপস্থিতি যথেষ্ট নয়।
ট্রাম্পের বক্তব্য—“একভাবে বা অন্যভাবে আমরা গ্রিনল্যান্ড নেব,”—এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও তিনি ডেনমার্কের সঙ্গে সমঝোতার কথাও বলেছেন, তবু প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। এর জবাবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয়ই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং তাদের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এ নিয়ে ভিন্নমুখী উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি র্যান্ডি ফাইন ‘গ্রিনল্যান্ড অ্যানেক্সেশন অ্যান্ড স্টেটহুড অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যা পাস হলে প্রেসিডেন্টকে গ্রিনল্যান্ড দখলের ক্ষমতা দেবে। বিপরীতে, ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জিমি গোমেজ ‘গ্রিনল্যান্ড সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা আইন’ প্রস্তাব করছেন, যাতে এ ধরনের উদ্যোগে ফেডারেল তহবিল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং ন্যাটোর ঐক্য, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আসন্ন বৈঠকগুলো এই উত্তেজনা কমাতে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি।



