ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার রাতেও রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এ পরিস্থিতিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করা তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’, এবং যে কোনো বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এই বিক্ষোভকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তীব্র অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন শাসক ধর্মীয় নেতৃত্বের পতনের দাবিতে রূপ নিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এই আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান “অভূতপূর্বভাবে স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে” এবং যুক্তরাষ্ট্র এই আন্দোলনকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
বিক্ষোভ চলাকালে উত্তর তেহরানে আতশবাজি, হাঁড়ি-পাত্র বাজানো এবং রাজতন্ত্রপন্থী স্লোগান শোনা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাবরিজ, মাশহাদ, কোম ও হামেদানসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভের দৃশ্য দেখা গেছে। কোথাও কোথাও শাহ আমলের সিংহ-সূর্য খচিত পতাকা প্রদর্শন করতেও দেখা যায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধের আড়ালে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। নরওয়ে-ভিত্তিক ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও নিরাপত্তা বাহিনীর ‘অবৈধ প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় “শক্ত হাতে” ব্যবস্থা নেবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিরাপত্তা বাহিনীর নিহত সদস্যদের জানাজার দৃশ্যও সম্প্রচার করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনসহ আন্তর্জাতিক নেতারা ইরান সরকারকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিন্দা করেছেন।



