ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে সোমবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বড় আকারের সরকারপন্থী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তেহরানসহ একাধিক প্রদেশে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং সরকারের প্রতি সমর্থন জানায়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, পরিস্থিতি এখন “নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, চলমান সহিংসতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা রয়েছে। তিনি একে “সন্ত্রাসী যুদ্ধ” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বিদেশি শক্তি বিক্ষোভে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তার দাবি, এ বিষয়ে তেহরানের কাছে নথি ও প্রমাণ রয়েছে।
এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র “খুব শক্ত বিকল্প” বিবেচনা করছে এবং সামরিক পথও খোলা রাখা হয়েছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে ইরান জানিয়েছে, হুমকি ছাড়া সংলাপের পথেই তারা আগ্রহী, কিন্তু যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্পের হুমকির জবাব দিয়ে বলেন, ইতিহাসে বহু ক্ষমতাধর শাসক পতিত হয়েছেন এবং অহংকারের পরিণতি ভালো হয়নি।
এদিকে দেশটিতে টানা চার দিনের বেশি সময় ধরে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে সংযোগ মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সমন্বয় করে ইন্টারনেট ধীরে ধীরে চালু করা হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস বলছে, অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংগঠন এই সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে। সরকারিভাবে হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানে সহিংসতা ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কর্তৃপক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইন্টারনেট সংযোগ পুনর্বহালেরও দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



