তুরস্কে নাইসিয়ান ক্রিডের মাধ্যমে যীশু খ্রীষ্ট কে স্রষ্টা মানার ১,৭০০ বছর স্মরণে খ্রিস্টান ঐক্যের আহ্বান করলেন পোপ লিও।
তুরস্কে নাইসিয়ান ক্রিডের উৎসস্থলে পূর্ব ও পশ্চিম খ্রিস্টান নেতাদের সঙ্গে ঐতিহাসিক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে খ্রিস্টান ঐক্যের আহ্বান জানালেন পোপ লিও চতুর্দশ। শুক্রবার ইজনিক লেকের তীরে অনুষ্ঠিত এ প্রার্থনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “নাইসিয়ান ক্রিড খ্রিস্টানদের পূর্ণ ঐক্যের পথে আমাদের জন্য মৌলিক ভিত্তি।”
ইজনিক সেই স্থান যেখানে ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট কনস্টান্টাইনের আহ্বানে বিশ্বব্যাপী বিশপরা প্রথমবারের মতো একত্র হয়ে নাইসিয়ান কাউন্সিললের (Council of Nicaea) মাধ্যমে খ্রিস্টান বিশ্বাসের ভিত্তিমূল নির্ধারণ করেন। এই ক্রিড আজও ক্যাথলিক, অর্থডক্স ও অধিকাংশ প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জায় সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।
৩২৫ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত নাইসিয়া কাউন্সিলকে (Council of Nicaea) খ্রিস্টীয় ইতিহাসে একটি বিপ্লবী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কাউন্সিলেই আল্লাহর সাথে প্রথমবারের মতো যীশু খ্রীষ্টকেও (ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সৃষ্টিকর্তা হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। যাহা নাইসিয়ান ক্রিড (Nicaean Creed) হিসেবে পরিচিত।
পরবর্তীতে রোমান সম্রাট থিওডোসিয়াসের আহ্বানে ৩৮১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম কনস্টান্টিনোপল কাউন্সিলে (Council of Constantinople) নাইসিয়ান ক্রিডকে সম্প্রসারিত করে আল্লাহ এবং যীশু খ্রীষ্টের সাথে পবিত্র আত্মাকেও (Holy Spirit) সৃষ্টিকর্তা হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এইভাবেই ত্রিতত্ত্ব মতবাদের (doctrine of the Trinity) সৃষ্টি হয়।
পূর্ব অর্থোডক্স চার্চের আধ্যাত্মিক নেতা কনস্টান্টিনোপল-নিউ রোমের আর্চবিশপ বার্থোলোমিউ, বিভিন্ন অর্থডক্স, প্রোটেস্ট্যান্ট ও অ্যাঙ্গলিকান গির্জার নেতৃবৃন্দসহ পোপ লিও সেই ঐতিহাসিক স্থানের ধ্বংসাবশেষের উপর দাঁড়িয়ে সম্মিলিতভাবে নাইসিয়ান ক্রিড পাঠ করেন। বার্তোলোমিও বলেন, “এটি শুধু স্মরণ নয়, আমরা সেই একই বিশ্বাসকে নতুনভাবে বাঁচিয়ে তোলার সাক্ষ্য দিতে এসেছি।”
প্রার্থনা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় সেন্ট নিওফাইতোস বাসিলিকার পুরনো ভিত্তির ওপর, যা সম্প্রতি হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় উন্মুক্ত হয়েছে।
ইজনিকে পৌঁছানোর আগে পোপ সকালে ইস্তাম্বুলে ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সংখ্যায় ছোট হলেও খ্রিস্টানরা তুরস্কের সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখছে এবং রাখতে পারে।”
এদিকে অনুষ্ঠানের আগে একটি ক্ষুদ্র ইসলামিক রাজনৈতিক দলের প্রায় ২০ জন সদস্য সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। তবে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
তুরস্কে চার দিনের সফরে পোপ লিও এর আগে প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির পক্ষে তুরস্কের ভূমিকা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার তিনি ইস্তাম্বুলের ব্লু মসজিদ পরিদর্শন করবেন এবং বিকেলে একটি জনসম্মুখে মিসা পরিচালনা করবেন।
রবিবার তিনি লেবাননে রওনা হবেন, যেখানে রাজনৈতিক সংকট ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



