২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকা, মুহাম্মাদ ইয়াছিন
“শহীদ মরে না”—এই শাশ্বত সত্যটি যেন আবারও প্রস্ফুটিত হলো শরীফ ওসমান হাদীর শাহাদাতের মধ্য দিয়ে। যারা ভাবছেন হাদী হারিয়ে গেছেন, তারা মূলত সময়ের গতিপথ পড়তে ব্যর্থ হয়েছেন। হাদী আসলে হারিয়ে যাননি; বরং সদ্য ভূমিষ্ঠ এক শিশুর ন্যায় তিনি জন্ম দিয়েছেন এক নতুন বিপ্লবের। তার রক্তে রোপিত হয়েছে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ এবং হারানো ধর্মীয় মূল্যবোধ পুনর্জাগরণের এক অবিনাশী বীজ।
মৃত্যু নয়, এ তো এক মহিমান্বিত জন্ম
শরীফ ওসমান হাদীর প্রস্থানকে মৃত্যু বলা ভুল হবে। তিনি একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো এই জমিনে পতিত হয়েছেন, যার আলোর বিচ্ছুরণ যুগ থেকে যুগান্তরে ছড়িয়ে পড়বে। একটি শিশু যেমন ধীরে ধীরে কৈশোর ও যৌবন পেরিয়ে পূর্ণতা পায়, হাদীর রেখে যাওয়া আদর্শও ঠিক সেভাবে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিকশিত হবে। আজ কেবল তার আদর্শের জন্ম হলো; এর পূর্ণতা লাভ এবং বিজয়ের পথ হয়তো দীর্ঘ, কিন্তু সেই গন্তব্য সুনিশ্চিত।
“হাদী কেবল একটি লড়াইয়ের সূচনা করে যাননি, বরং তিনি সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের মিছিলে শামিল হয়েছেন যা পৃথিবী সৃষ্টির লগ্ন থেকে সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্বে চলে আসছে।
এই লড়াই নতুন নয়। যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ ইনসাফ কায়েমের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যা সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছিল। শরীফ ওসমান হাদী সেই একই কাফেলায় নিজের নাম লিখিয়েছেন, যারা দীনের জন্য এবং মজলুমের অধিকার আদায়ের জন্য অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেন।
ইতিহাস সাক্ষী, যখনই ইনসাফ ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, তখনই বীর মুমিন গাজীরা শাহাদাতের পেয়ালা পান করে জমিনকে উর্বর করেছেন। আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী, সাইয়্যেদ কুতুব, হাসান আল বান্না , ওমর মুখতার, সাইয়্যেদ আহমদ বেরলভী, শাহ ইসমাইল শহীদ এর উত্তরসূরি হিসেবে শহীদি কাফেলার সর্বশেষ নামটি শরীফ ওসমান হাদী, যারা একই আদর্শের মশাল বহন করেছিলেন।
শরীফ ওসমান হাদী আজ আমাদের মাঝে সশরীরে নেই, কিন্তু তার তেজদীপ্ত আদর্শ প্রতিটি দেশপ্রেমিক ও ঈমানদার হৃদয়ে কম্পন সৃষ্টি করছে। তার ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। যে লড়াই তিনি শুরু করে গেছেন, তা পূর্ণতা পাবেই। সময়ের পরিক্রমায় সেই চারাগাছটি মহীরুহ হয়ে উঠবে এবং এই জমিনে ইনসাফ ও সততার পতাকা সমুন্নত হবে।
হাদী মরে নাই, হাদী জেগে আছে প্রতিটি বিপ্লবীর মিছিলে। তার আদর্শের বিজয় কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।



