ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বড় ধরনের অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর সিভেরস্ক থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। প্রবল রুশ হামলা ও লাগাতার বিমান আক্রমণের মুখে মঙ্গলবার রাতে শহরটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় ইউক্রেনীয় বাহিনী। রাশিয়ার দাবি, তাদের সেনারা ইতোমধ্যে শহরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে।
একই সময় ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে। এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে এবং বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় শত শত ড্রোন ও গোলাবর্ষণের ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। রুশ তদন্ত সংস্থার মতে, বিস্ফোরণটি এমন একটি এলাকার কাছেই ঘটেছে, যেখানে এর আগের দিন এক রুশ জেনারেল গাড়ি বোমা হামলায় নিহত হন। ঘটনার পেছনে ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, যদিও ইউক্রেন এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর দক্ষিণে তুলা অঞ্চলের একটি শিল্প এলাকায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা একাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
যুদ্ধের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায়, ইউক্রেনে আটক দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দি দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন জীবন শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমা ও দক্ষিণ কোরীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিতে উত্তর কোরিয়া হাজারো সেনা পাঠিয়েছে।
সব মিলিয়ে, বড়দিনের আগে ইউক্রেন যুদ্ধ আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে। সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ড্রোন হামলা, নাশকতা ও লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ এই যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে।



