নাসার বহুল প্রতীক্ষিত মেগা-রকেট খুব শিগগিরই চন্দ্রাভিযানের পথে যাত্রা শুরু করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, তাদের ৯৮ মিটার উঁচু স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটটি আগামী ১৭ জানুয়ারি আবহাওয়া ও কারিগরি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চপ্যাড ৩৯বি-তে নিয়ে যাওয়া হবে।
বিশাল এই রকেট ও এর সঙ্গে যুক্ত ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুল বহনের জন্য ব্যবহৃত হবে বিশেষ “ক্রলার ট্রান্সপোর্টার” যান। চার মাইল দীর্ঘ এই যাত্রা সম্পন্ন হতে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে।
এটি হবে আর্টেমিস-২ মিশন, যা ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো মানুষকে নিয়ে চাঁদের কক্ষপথে পাঠাবে। এর আগে ২০২২ সালে আর্টেমিস-১ মিশনে কোনো মানুষ ছাড়াই রকেট ও ক্যাপসুলের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
এই মিশনে চারজন নভোচারী অংশ নেবেন—নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ, এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। তারা প্রায় ১০ দিনের একটি যাত্রায় চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
নাসার এক কর্মকর্তা জানান, উৎক্ষেপণের আগে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত যাচাইই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রকেট লঞ্চপ্যাডে পৌঁছানোর পর গ্রাউন্ড সাপোর্ট সিস্টেম সংযোগ, একাধিক পরীক্ষা এবং জানুয়ারির শেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ “ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল” পরিচালনা করা হবে, যেখানে রকেটটি সম্পূর্ণ জ্বালানিতে ভরে কাউন্টডাউন অনুশীলন করা হবে।
যদিও মিশনটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক বছরেরও বেশি পিছিয়ে গেছে—বিশেষ করে লাইফ সাপোর্ট ও হিট শিল্ডে ত্রুটি ধরা পড়ায়—তবুও নাসা আশাবাদী যে সব সমস্যা সমাধানের পথে।
বর্তমানে উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে, তবে চাঁদের অবস্থানের কারণে মাসে মাত্র কয়েকটি দিনেই উৎক্ষেপণ সম্ভব। আবহাওয়া বা প্রযুক্তিগত কারণে শেষ মুহূর্তে উৎক্ষেপণ বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
আর্টেমিস কর্মসূচিকে চাঁদে মানুষের স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ এবং আরও গভীর মহাকাশ অভিযানের ভিত্তি তৈরি করবে।



