রোববার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ মিয়ানমারের মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় হচ্ছে। চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের বড় অংশ এখনো সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকায় সেখানে ভোট আয়োজন সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে ৬৫টি টাউনশিপে ভোট সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। প্রাথমিক ধাপের পর আগামী ১১ ও ২৫ জানুয়ারি আরও দুটি ধাপে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।
রাজধানী নেপিডোতে ভোট দিয়ে নিজের আঙুলে কালি লাগানো ছবি প্রকাশ করেন জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইং। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু এবং সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে হওয়ায় এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোও এই ভোটকে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে নতুন সূচনা হিসেবে তুলে ধরছে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবতা ভিন্ন। বিরোধী দলগুলোর বড় অংশ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, সাবেক নেত্রী অং সান সু চি এখনো কারাবন্দি এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত। ব্যালটে বেশিরভাগই সামরিকপন্থী দল, বিশেষ করে ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। বিশ্লেষকদের মতে, এই দলই বড় জয় পেতে পারে।
ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কিছু এলাকায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে লিখিত ভোট বা বাতিল ব্যালটের সুযোগ নেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোটার উপস্থিতি সীমিত এবং তরুণ ভোটারদের সংখ্যা খুবই কম।
জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুস এই নির্বাচনকে “অস্ত্রের মুখে সাজানো নাটক” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষায়, যে সরকার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলা চালায়, রাজনৈতিক নেতাদের কারাবন্দি করে এবং ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে—তাদের আয়োজিত নির্বাচন সংকটের সমাধান নয়, বরং তা আরও গভীর করবে।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতে আনুমানিক ৯০ হাজার মানুষ নিহত, ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক শাসনের ওপর একটি বেসামরিক পর্দা টানা হলেও দেশের রাজনৈতিক সংকট ও সহিংসতা কমার সম্ভাবনা খুবই কম।



