সততার কণ্ঠ, তথ্যের শক্তি

Saturday, January 3, 2026

ব্রেকিং নিউজ

মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি—এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু বা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ মিয়ানমারের মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় হচ্ছে। চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের বড় অংশ এখনো সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকায় সেখানে ভোট আয়োজন সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে ৬৫টি টাউনশিপে ভোট সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। প্রাথমিক ধাপের পর আগামী ১১ ও ২৫ জানুয়ারি আরও দুটি ধাপে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজধানী নেপিডোতে ভোট দিয়ে নিজের আঙুলে কালি লাগানো ছবি প্রকাশ করেন জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইং। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু এবং সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে হওয়ায় এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোও এই ভোটকে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে নতুন সূচনা হিসেবে তুলে ধরছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবতা ভিন্ন। বিরোধী দলগুলোর বড় অংশ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, সাবেক নেত্রী অং সান সু চি এখনো কারাবন্দি এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত। ব্যালটে বেশিরভাগই সামরিকপন্থী দল, বিশেষ করে ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। বিশ্লেষকদের মতে, এই দলই বড় জয় পেতে পারে।

ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কিছু এলাকায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে লিখিত ভোট বা বাতিল ব্যালটের সুযোগ নেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোটার উপস্থিতি সীমিত এবং তরুণ ভোটারদের সংখ্যা খুবই কম।

জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুস এই নির্বাচনকে “অস্ত্রের মুখে সাজানো নাটক” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষায়, যে সরকার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলা চালায়, রাজনৈতিক নেতাদের কারাবন্দি করে এবং ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে—তাদের আয়োজিত নির্বাচন সংকটের সমাধান নয়, বরং তা আরও গভীর করবে।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতে আনুমানিক ৯০ হাজার মানুষ নিহত, ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক শাসনের ওপর একটি বেসামরিক পর্দা টানা হলেও দেশের রাজনৈতিক সংকট ও সহিংসতা কমার সম্ভাবনা খুবই কম।

spot_imgspot_img

সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ‘গ্রেপ্তার’, দাবি ট্রাম্পের।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ব্যাপক সামরিক...

ইরানে আবিষ্কৃত হলো প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরোনো বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম চোখ।

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন নগরী শাহর-ই সুখতেহ (দ্য বার্ন্ট...

কারাকাসে বিস্ফোরণের শব্দ, যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা উত্তেজনা তীব্র।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং...

ইয়েমেন সংকট: আমিরাতের সব সেনা প্রত্যাহার, সৌদির সংলাপ আহ্বান।

ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব সব ইয়েমেনি পক্ষকে...

ইরান বিক্ষোভ ইস্যুতে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চায় তেহরান।

ইরানের চলমান বিক্ষোভ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “হুমকিমূলক...
spot_img

এই সপ্তাহে আলোচিত

spot_img
spot_imgspot_img