নেদারল্যান্ডসের জাতীয় নির্বাচনে মধ্যপন্থী ডি৬৬ (D66) দল অল্প ব্যবধানে জয় লাভ করেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে দলটির নেতা রব জেটেন (Rob Jetten) দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদসংস্থা এএনপি (ANP)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডি৬৬ দল চরম ডানপন্থী নেতা গিয়ার্ট উইল্ডার্সের (Geert Wilders) পিভিভি (PVV) দলের চেয়ে প্রায় ১৫,০০০ ভোটে এগিয়ে আছে। যদিও এখনও ডাকযোগে পাঠানো ভোট গণনা চলছে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উইল্ডার্স আর ব্যবধান ঘোচাতে পারবেন না।
রব জেটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির সবচেয়ে তরুণ নেতা হতে যাচ্ছেন। তবে, তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন একটি স্থিতিশীল জোট সরকার গঠন করা।
ডি৬৬-কে সরকার গঠনের জন্য ১৫০ আসনের সংসদে অন্তত ৭৬ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। সম্ভাব্য “গ্র্যান্ড কোয়ালিশন”-এ অংশ নিতে পারে মধ্য-ডানপন্থী সিডিএ (CDA), উদারপন্থী ভিভিডি (VVD) এবং বামঘেঁষা গ্রিন/লেবার জোট। তবে ভিভিডি এবং গ্রিন/লেবার একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ভিভিডি নেত্রী দিলান ইয়েসিলগোজ (Dilan Yesilgoz) নির্বাচনের আগে বলেছিলেন যে গ্রিন/লেবারের সঙ্গে জোট “কাজ করবে না” এবং তিনি একটি কেন্দ্র-ডানপন্থী সরকার চান। তবে গ্রিন/লেবার তাদের নতুন নেতা নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও গিয়ার্ট উইল্ডার্সের সমর্থন কমেছে, অন্যান্য ডানপন্থী দলগুলো ভালো করেছে। ইউরোপবিরোধী ফোরাম ফর ডেমোক্রেসি (FvD) তাদের আসন তিন থেকে বাড়িয়ে সাতটি করেছে। এছাড়া, রক্ষণশীল ডানপন্থী জে এ২১ (JA21) দল এক আসন থেকে বেড়ে নয় আসনে পৌঁছেছে।
চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কোফ (Dick Schoof) দায়িত্বে থাকবেন। তিনি বলেছেন, “সম্ভবত আমি বড়দিন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকব।”
নেদারল্যান্ডসের নির্বাচনী ইতিহাসে এটি এক উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আগামী মাসগুলোতে ইউরোপীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।



