তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও চারজন শীর্ষস্থানীয় লিবিয়ান সামরিক কর্মকর্তা এবং তিনজন ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে ত্রিপোলির উদ্দেশে যাত্রা করা একটি বেসরকারি জেট বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই রাডার থেকে নিখোঁজ হয়। পরে আঙ্কারার হায়মানা জেলার কেসিককাভাক গ্রামের কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে কোনো ধরনের নাশকতার আলামত পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কারিগরি ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, বিমানটি উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর জরুরি অবতরণের অনুরোধ করেছিল এবং বৈদ্যুতিক সমস্যার কথাও জানানো হয়। তবে অবতরণের আগেই বিমানটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা এক বিবৃতিতে আল-হাদ্দাদের মৃত্যুকে “জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন মানুষদের হারালাম, যারা নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন।” এই ঘটনায় লিবিয়ায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় সব সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং সব ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান স্থগিত থাকবে।
আল-হাদ্দাদ ছিলেন পশ্চিম লিবিয়ার শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দেশটির বিভক্ত সামরিক কাঠামো ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। ২০১৪ সাল থেকে রাজনৈতিক বিভাজনে থাকা লিবিয়ায় তিনি সামরিক ঐক্য ও জাতীয় পুনর্মিলনের পক্ষে পরিচিত মুখ ছিলেন।
লিবিয়ান প্রতিনিধিদলটি তুরস্কে উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছিল। দুর্ঘটনার তদন্তে তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে লিবিয়া শিগগিরই একটি তদন্ত দল আঙ্কারায় পাঠাবে বলে জানিয়েছে ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার।
এই দুর্ঘটনায় লিবিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নেতা খলিফা হাফতারসহ বিভিন্ন পক্ষ আল-হাদ্দাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।



