ইতালীয় খাবারপ্রেমীদের জন্য এসেছে ঐতিহাসিক সুখবর। বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ জাতীয় খাদ্যসংস্কৃতি হিসেবে ইতালীয় রান্না ও খাদ্যপ্রণালী ইউনেস্কোর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে। জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো এই স্বীকৃতি দেওয়ায় ইতালির খাদ্য ঐতিহ্য আন্তর্জাতিকভাবে আরও সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠল।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বুধবার এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “এই স্বীকৃতি আমাদের পরিচয় ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানায়। ইতালীয়দের কাছে খাবার শুধু রেসিপির সমষ্টি নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শ্রম এবং সমৃদ্ধির অংশ।”
এই স্বীকৃতির পেছনে রয়েছে ইতালির কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রায় তিন বছরের প্রচেষ্টা। প্রস্তাবে বলা হয়, ইতালিতে খাবার উৎপাদন, সংগ্রহ, রান্না ও পরিবেশনের পুরো প্রক্রিয়াই একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক চর্চা, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পরিবারে পরিবারে হস্তান্তরিত হয়ে আসছে।
ইতালি দীর্ঘদিন ধরে নকল বা “ফেক” ইতালীয় খাবারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। কার্বোনারা সসের মতো প্রস্তুত পণ্য বা ইতালীয় নাম ব্যবহার করে অন্য দেশে তৈরি খাদ্যপণ্য নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট পর্যন্ত অভিযোগ করেছে দেশটি। ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি এসব ভেজাল ও অনুকরণ থেকে ইতালীয় খাবারকে সুরক্ষায় সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী ফ্রানচেস্কো লোলোব্রিজিদা।
তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু গর্বের নয়, বরং ইতালির পণ্য, অঞ্চল ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং “মেড ইন ইতালি” ব্র্যান্ড আরও শক্তিশালী হবে।
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি সাধারণত পর্যটন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। যদিও ইতালি ইতোমধ্যেই ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য, তবু সরকার আশা করছে এই স্বীকৃতি দেশটির কৃষি ও খাদ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ইতালির নেপলসের পিৎজা প্রস্তুতকারক, অপেরা গান, ট্রাফল শিকার এবং ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস ইউনেস্কোর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার পুরো ইতালীয় রান্না ও খাদ্যসংস্কৃতি সেই মর্যাদায় যুক্ত হয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।



