একসময় যে খাতগুলোতে লোকসানের পাহাড় জমতো বলে দেখানো হতো, মাত্র ১৬ মাসের ব্যবধানে সেই সব রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতে বইছে লাভের সুবাতাস। সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্নীতি চিহ্নিত করার পরপরই বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এবং দেশের বন্দরগুলোর কার্যক্রমে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। প্রশ্ন উঠেছে, বছরের পর বছর ধরে এই খাতগুলোর লোকসান দেখানোর পেছনে কি কেবলই দুর্নীতিবাজদের পকেট ভরার উদ্দেশ্য ছিল?
অভাবনীয় লাভের পরিসংখ্যান: দেশের চারটি প্রধান খাতে দেখা গেছে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা ও কর্মদক্ষতার উন্নয়ন:
রেলওয়েতে রেকর্ড লাভ: বিগত বছরগুলোতে যে রেলে লোকসান দেখানো হতো আড়াই গুণেরও বেশি, সেখানে এবার ১১৮ কোটি টাকা লাভ হয়েছে।
বিমানের ৫৫ বছরের রেকর্ড: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৯৩৭ কোটি টাকা (অনিরীক্ষিত) মুনাফা করেছে, যা গত ৫৫ বছরের মধ্যে রেকর্ড। এর আগে সর্বোচ্চ মুনাফা ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে, ৪৪৪ কোটি টাকা। এই সাফল্যের সময়েও বিমানের টিকেটের দাম কমানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
স্যাটেলাইটে প্রথম মুনাফা: ছয় বছর পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ৩৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লাভের মুখ দেখেছে।
বন্দরে কর্মদক্ষতার বিস্ফোরণ: পণ্য খালাসে যেখানে দিনের পর দিন ‘গ্যাঞ্জাম’ দেখিয়ে দেরি করা হতো, এখন তা মাত্র ২ দিনের মধ্যে পুরোপুরি খালাস হচ্ছে।
মূল সমস্যা দুর্নীতি: দেশের মূল সমস্যা হলো দুর্নীতি ও অনিয়ম। অতীতেও এসব খাতে লাভ হতো, কিন্তু সেই টাকা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, মন্ত্রী ও এমপি-মাফিয়ারা মিলেমিশে খেয়ে দিত এবং উল্টো লোকসান দেখিয়ে জনগণের পকেট কাটতো— ট্যাক্স ও ভাড়া বাড়িয়ে।
“এদেশের মূল সমস্যা দুর্নীতি! আর এই অনিয়ম আর দুর্নীতির মহা নায়ক এমপি, মন্ত্রী ও সরকারি বড় বড় কর্তারা।” শুধুমাত্র দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলেই মাত্র ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকেও বেশি উন্নত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিঙ্গাপুর মডেল: সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘লি কুয়ান ইউ’- দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে দেশটিকে বদলে দিয়েছেন। সিঙ্গাপুরে প্রাকৃতিক সম্পদ বা জনশক্তি কম থাকা সত্ত্বেও কেবল শিক্ষা, শৃঙ্খলা, সৎ নেতৃত্ব, সততা ও জবাবদিহিতা থাকার কারণেই তারা বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ হতে পেরেছে।
দুর্নীতির প্রমাণ পেলে কেবল বদলি বা শোকজ নয়, বরং চীনের মতো মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালু করতে হবে। চীনে সম্প্রতি এক মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাকে দুর্নীতির দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
“আমাদের কিচ্ছু দরকার নাই! দরকার শুধু সুশাসন, নিরপেক্ষ আইনের শাসন। দরকার শুধু দুর্নীতিমুক্ত একটা দেশ!”



