জ্যামাইকা মঙ্গলবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’র, যা দ্বীপটির ১৭৪ বছরের আবহাওয়া ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৭৫ মাইল (প্রায় ২৮০ কিমি), যা বর্তমানে ক্যাটাগরি–৫ মাত্রায় রয়েছে।
মেলিসা মঙ্গলবার সকালেই দক্ষিণের সেন্ট এলিজাবেথ এলাকা দিয়ে স্থলে প্রবেশ করে উত্তর দিকের সেন্ট অ্যান হয়ে দ্বীপটি অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস সতর্ক করে বলেছেন, “ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার ঝড়ের ধাক্কা সহ্য করতে পারে এমন কোনো অবকাঠামো এই অঞ্চলে নেই। এখন আসল প্রশ্ন হলো—কত দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যাবে।”
ঝড়ের আগেই ভূমিধস, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ উপকূলে ১৩ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
জ্যামাইকা, হাইতি ও ডমিনিকান রিপাবলিক মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
অন্যদিকে, কিউবার পূর্বাঞ্চলেও মেলিসা মঙ্গলবার রাতের দিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটি ইতিমধ্যে ৬ লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ধীরগতির এই ঘূর্ণিঝড়টি ২০১৭ সালের ‘মারিয়া’ বা ২০০৫ সালের ‘ক্যাটরিনা’র মতো বিধ্বংসী প্রভাব ফেলতে পারে।



