সততার কণ্ঠ, তথ্যের শক্তি

Tuesday, January 6, 2026

ব্রেকিং নিউজ

গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন এবং ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিতকরণ
বিএনপির মিডিয়া সেল এবং দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই শোক সংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে। সকাল সোয়া ৯টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অশ্রুসজল চোখে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমাদের দেশমাতা, গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী বেগম খালেদা জিয়া আজ ফজরের নামাজের পর আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। দেশ এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হলো।”

শেষ সময়ে পাশে ছিলেন প্রিয়জনরা
মৃত্যুর সময় হাসপাতালের শয্যাপাশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন শেষে তিনি গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তাঁর পুত্রবধূ ডা. জুবায়দা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট পুত্র প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি, ভাই শামীম ইস্কান্দার এবং বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা।

দীর্ঘ রোগভোগের অবসান
গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা নিয়ে বেগম জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস এবং কিডনি জটিলতাসহ নানাবিধ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিল। শেষ কয়েকদিন তাঁকে সিসিইউ-তে (ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবন
জন্ম: ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, দিনাজপুরে।

প্রধানমন্ত্রিত্ব: ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালেও তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

রেকর্ড: সংসদীয় রাজনীতিতে তিনি যে কয়টি আসন থেকে নির্বাচন করেছেন, কোনোটিতেই কখনো পরাজিত হননি।

উপাধি: ১৯৮০-এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকার জন্য তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ এবং পরবর্তীতে তাঁর দল কর্তৃক ‘দেশনেত্রী’ ও ‘গণতন্ত্রের মা’ উপাধিতে ভূষিত হন।

জানাজা ও দাফন
বিএনপি সূত্রে জানানো হয়েছে, মরহুমার প্রথম জানাজা রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে জানাজার সময়সূচি ও দাফনের স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আজ বিকেলের মধ্যে জানানো হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

spot_imgspot_img

সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ

ইইউকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা আলেকসান্দার ভুলিনের: ‘সদস্য নয়, সার্বিয়াকে চায় সেনা ও শ্রমিক হিসেবে’।

সার্বিয়ার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকসান্দার ভুলিন দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন...

প্রতিরক্ষার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন গ্রিনল্যান্ড — ট্রাম্পের দাবি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার...

নিউইয়র্কে আটক মাদুরো, ভেনেজুয়েলা শাসনের দাবি ট্রাম্পের।

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে...

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ‘গ্রেপ্তার’, দাবি ট্রাম্পের।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ব্যাপক সামরিক...

ইরানে আবিষ্কৃত হলো প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরোনো বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম চোখ।

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন নগরী শাহর-ই সুখতেহ (দ্য বার্ন্ট...
spot_img

এই সপ্তাহে আলোচিত

spot_img
spot_imgspot_img