সততার কণ্ঠ, তথ্যের শক্তি

Saturday, January 3, 2026

ব্রেকিং নিউজ

বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিচালনার দায়িত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:

দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের এবং দৃষ্টিনন্দন কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের মূল স্থাপনাগুলোর পরিচালনার ভার দেশীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নয়, বরং বিদেশি কোনো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই অত্যাধুনিক স্টেশনের পরিচালনা ব্যয়ভার ও বাণিজ্যিক দিক সামলাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে খোদ বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ব্যয়ভার ও পরিচালনায় অপারগতা:

প্রায় ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঝিনুকের আদলে নির্মিত এই ছয়তলা আইকনিক রেল স্টেশনটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হলেও, স্টেশনের মূল ভবনের শপিং মল, ফুড কোর্ট, মাল্টিপারপাস হল এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক সুবিধাগুলো এখনো পুরোদমে চালু করা সম্ভব হয়নি।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আন্তর্জাতিক মানের এই ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বজায় রাখার জন্য যে বিপুল পরিমাণ ব্যয়ভার প্রয়োজন, তা রেলওয়ের বর্তমান কাঠামোর পক্ষে বহন করা কঠিন। একই সঙ্গে, এসব বাণিজ্যিক স্থাপনা পরিচালনার জন্য যে বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা দেশীয় একক কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপরও ভরসা করতে রাজি নয় রেল মন্ত্রণালয়।

আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তুতি:

এই পরিস্থিতিতে, রেল মন্ত্রণালয় স্টেশনটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক স্পেসগুলো পরিচালনার জন্য একটি ‘থার্ড পার্টি’ বা তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা এই অত্যাধুনিক স্থাপনা পরিচালনার জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে খুঁজছেন।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। তবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার’ বা যৌথ উদ্যোগে এই দরপত্রে অংশ নিতে পারবে বলে জানা গেছে।

পর্যটন শিল্পের উপর প্রভাবের আশঙ্কা:

পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে বিশ্বমানের রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার যে স্বপ্ন নিয়ে এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, তার অন্যতম আকর্ষণ ছিল এই আইকনিক স্টেশন। উদ্বোধনের প্রায় দুই বছর পরেও স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক সুবিধাগুলো চালু না হওয়ায় যাত্রীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তেমনি স্থাপনাগুলো বিদেশিদের হাতে চলে গেলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বাণিজ্যিক পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্যোগ ব্যাহত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রেলওয়ের উচিত দ্রুততার সাথে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে স্টেশনটির সব সুবিধা চালু করা, যাতে দেশের পর্যটন ও বাণিজ্যিক খাত এর পূর্ণাঙ্গ সুবিধা ভোগ করতে পারে।

spot_imgspot_img

সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ

শহীদ জিয়ার পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫বিএনপি...

গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫বাংলাদেশের প্রথম...

সতেরো বছর পর– নয়াপল্টন কার্যালয়ে তারেক রহমান

রাজধানীর নয়াপল্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসেছেন দলের...

বিশ্বে প্রথমবার ইতালীয় খাবার পেল ইউনেস্কোর স্বীকৃতি।

ইতালীয় খাবারপ্রেমীদের জন্য এসেছে ঐতিহাসিক সুখবর। বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ...
spot_img

এই সপ্তাহে আলোচিত

spot_img
spot_imgspot_img