ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথমবারের মতো চালু করা ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ প্রদান করায় সংস্থাটির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে পুরস্কারটি হাতে তুলে দেন ইনফান্তিনো। তিনি ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উদ্যোগ, বিশেষ করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের প্রশংসা করেন এবং বলেন যে নেতৃত্বে “মানুষের নিরাপত্তা ও ঐক্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ”।
তবে মানবাধিকার কর্মী ও সমালোচকরা পুরস্কারটিকে “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারিবীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী বিমান হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত থাকা সত্ত্বেও তাকে শান্তির পুরস্কার দেওয়া রাজনৈতিক পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।
জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা ক্রেইগ মোকহিবার বলেন, ফিফা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে “গণহত্যার সহচর” হয়ে আছে। তার ভাষ্য, নতুন এ পুরস্কার ট্রাম্পের “মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড আড়াল করার চেষ্টা”।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং বিভিন্ন অধিকার সংগঠনও পুরস্কারটিকে তীব্র সমালোচনা করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রশাসনের কর্মকাণ্ড “শান্তি ও ঐক্যের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ” নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করায় ইনফান্তিনো-ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। তবে এই পুরস্কার ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার দাবি আবারও বিতর্কের মুখে ফেলেছে।



