ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যেসব দাবি ও উদ্বেগ জানিয়েছিল, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার (১৫ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তা ‘স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং আসন্ন নির্বাচন বানচালে তার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
🇧🇩 ঢাকার মূল অভিযোগ ও দাবি
রোববার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রেস নোট প্রকাশ করে, তার মূল দাবিগুলো ছিল:
শেখ হাসিনার উস্কানি: ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা তার সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, যা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুতর হুমকি।
প্রত্যর্পণের দাবি: আদালতের দেওয়া সাজার মুখোমুখি করতে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের আহ্বান।
অসহযোগিতা: ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে দিল্লিকে অনুরোধ করা হয়।
নিরাপত্তা সহযোগিতা: রাজনৈতিক নেতা শরিফ ওসমান হাদীর ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনরা যেন ভারতে আশ্রয় না নিতে পারে এবং প্রবেশ করলে দ্রুত প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জবাব
বাংলাদেশের দাবি ও অভিযোগের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই দিন সন্ধ্যায় একটি বিবৃতি দেয়, যেখানে তারা স্পষ্ট ভাষায় ঢাকার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে। তাদের বিবৃতিতে মূল বক্তব্যগুলো হলো:
দাবি প্রত্যাখ্যান: ভারত ১৫ ডিসেম্বরের বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস নোটে উত্থাপিত বক্তব্যগুলি ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান’ করছে।
ভূখণ্ড ব্যবহারের অস্বীকৃতি: ভারত কখনোই তার ভূখণ্ডকে ‘বন্ধুপ্রতীম বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে দেয়নি’।
নির্বাচনে অবস্থান: ভারত বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে তার অবস্থান সব সময়েই জানিয়েছে।
ঢাকাকে বার্তা: ভারত আশা করে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বৈঠকে জানান, ভারত বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায় এবং এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে নির্বাচনের প্রাক্কালে ঢাকা-নয়াদিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হলো।



