ইউরোপজুড়ে শীতের তীব্রতা বাড়ায় ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসে তুষারপাত ও বরফের কারণে সড়ক, রেল ও আকাশপথে বড় ধরনের ভ্রমণ ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর মেতেও ফ্রান্স প্যারিসসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় তুষার ও বরফের জন্য কমলা সতর্কতা জারি করে।
চ্যানেল টানেলের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মূল ভূখণ্ডকে সংযুক্ত করা ইউরোস্টার জানায়, নেদারল্যান্ডসের প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ব্রাসেলসের পর আর ট্রেন চলাচল সম্ভব নয়। ফলে লন্ডন থেকে নেদারল্যান্ডসগামী যাত্রীদের ভ্রমণ স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস ও প্যারিসের গার দু নর্দের মধ্যে ছয়টি ট্রেন বাতিল করা হয় এবং বহু ট্রেন বিলম্বিত হয়। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর চ্যানেল টানেলে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যে স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ভারী তুষারপাত হয়। ইনভারনেসের কাছে টমিনটুলে তুষারের উচ্চতা ৫২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। রেলপথ সচল রাখতে তুষার সরানো গাড়ি মোতায়েন করা হয়। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস স্কটল্যান্ড, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও উত্তর ইংল্যান্ডে তুষার ও বরফের সতর্কতা জারি রাখে। কামব্রিয়ায় তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ১০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, আর কোথাও কোথাও মাইনাস ১২ ডিগ্রির আশঙ্কা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ২১২টি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ফ্রান্সে প্যারিসের শার্ল দ্য গল ও অরলি বিমানবন্দরে ভারী তুষারপাতের কারণে ফ্লাইট ১৫ শতাংশ কমানো হয়। বিমানবন্দরে শতাধিক স্নোপ্লাউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান পরিবহনমন্ত্রী। রাজধানী প্যারিস ও নরম্যান্ডি অঞ্চলে সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয় এবং বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
নেদারল্যান্ডসে আমস্টারডাম অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় রেল পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দেশটির প্রধান বিমানবন্দর স্কিফোল-এ সোমবার নির্ধারিত ফ্লাইটের অর্ধেকের বেশি, প্রায় ৭০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।
এদিকে স্কটল্যান্ডে পুলিশ বন্ধ সড়কে চলাচল না করার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের রোডসাইড সহায়তা সংস্থা এএ জানায়, সাধারণ দিনের তুলনায় তাদের কলআউট ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে ইউরোপজুড়ে এই শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।



