অস্ট্রেলিয়া ব্রিসবেনের দ্য গাব্বায় অনুষ্ঠিত দিন-রাতের দ্বিতীয় অ্যাশেজ টেস্টে ইংল্যান্ডকে আট উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মাত্র ৬৫ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া ১০ ওভারেই পৌঁছে যায়, যেখানে অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ গাস অ্যাটকিনসনের করা বলে বিশাল ছক্কা মেরে ম্যাচ জয় নিশ্চিত করেন।
দ্বিতীয় টেস্ট জুড়ে ইংল্যান্ড ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই পিছিয়ে ছিল। দুই ইনিংস মিলিয়ে তারা অপ্রয়োজনীয় শট খেলে উইকেট বিলিয়ে আসে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা ধারাবাহিকতা দেখালেও ইংল্যান্ড নতুন বল এবং বাউন্সি উইকেট কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।
প্রথম ইনিংসে জো রুটের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ইংল্যান্ড বাকি ব্যাটারদের ঢিলেঢালা শটে সুবিধাজনক অবস্থান হারায়। দুটি ইনিংস মিলিয়ে তারা পাঁচটি সহজ ক্যাচ ফেলে, যা অস্ট্রেলিয়াকে বড় লিড পেতে সহায়তা করে।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে জোশ ইনগ্লিসের দুর্দান্ত রান-আউট বেন স্টোকসকে সাজঘরে ফেরানো ম্যাচের গতি পাল্টে দেয়। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার ও টেইলএন্ডাররা ধৈর্য ধরে লিডকে ১৭৭ রানে পৌঁছে দেয়।
রবিবার সকালে বেন স্টোকস ও উইল জ্যাকস রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে ইংল্যান্ডকে প্রতিরোধ গড়তে সাহায্য করেন। তারা অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের শাসন করে ধীরে ধীরে লিড পার হতে থাকেন।
কিন্তু পানীয় বিরতির আগ মুহূর্তে মাইকেল নেসারের বলে জ্যাকস আউট হলে প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। এরপর স্টোকসও অল্প ব্যবধানে ফিরলে ইংল্যান্ডের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যায়।
মাত্র ৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই ট্রাভিস হেড ও লাবুশেনকে হারালেও কোনো চাপ তৈরি হয়নি। স্মিথ ও জেক ওয়েদারাল্ড সহজেই ম্যাচ শেষ করেন।
ইনিংস অনুযায়ী স্কোর-
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ৩৩৪ অলআউট (জো রুট ১৩৮*)
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৫১১ অলআউট (মিচেল স্টার্ক ৭৭; কার্স ৪/১৫২)
ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস: ২৪১ অলআউট (বেন স্টোকস ৫০; নেসার ৫/৪২)
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ৬৯/২ – জয় (স্টিভ স্মিথ ২৩*, অ্যাটকিনসন ২/৩৭)
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: মিচেল স্টার্ক (প্রথম ইনিংসে ৬/৭৫ ও ৭৭ রান)
সিরিজে ২-০ ব্যবধান নিয়ে অস্ট্রেলিয়া এখন অ্যাশেজ ধরে রাখার সবচেয়ে কাছাকাছি। বাকি তিনটি টেস্ট হবে—
তৃতীয় টেস্ট: ১৭ ডিসেম্বর, অ্যাডিলেড ওভাল
চতুর্থ টেস্ট: বক্সিং ডে, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড
পঞ্চম টেস্ট: ৪ জানুয়ারি, সিডনি
ইংল্যান্ডের জন্য অ্যাশেজ ফিরে পাওয়া এখন অত্যন্ত কঠিন, কারণ অ্যাডিলেডে জয় ছাড়া তারা আর সিরিজ জিততে পারবে না।



