মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের আটটি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। গ্রিনল্যান্ড “সম্পূর্ণভাবে কিনে নেওয়ার” বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক কার্যকর থাকবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। পরবর্তীতে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, আর্কটিক অঞ্চলে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং এর বিপুল খনিজ সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।
এদিকে ট্রাম্পের এই হুমকির পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা জরুরি বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইইউ নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এই শুল্ক আরোপ ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং একটি “বিপজ্জনক উত্তেজনার চক্র” তৈরি করতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন,
“ইউরোপ ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “কোনো ধরনের ভয় দেখানো বা হুমকি ইউরোপকে প্রভাবিত করতে পারবে না—হোক তা ইউক্রেন, গ্রিনল্যান্ড বা বিশ্বের অন্য কোনো জায়গা।”
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনও এই হুমকি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের।
উল্লেখ্য, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের জনগণের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দেওয়ার বিরোধী। জানুয়ারি ২০২৫-এর এক জরিপ অনুযায়ী, ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিপক্ষে, আর মাত্র ৬ শতাংশ এর পক্ষে মত দিয়েছেন।



