গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না নিলে বিশ্ব নিরাপদ থাকবে না।” এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যেসব দেশ গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে। এর জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তাদের শক্তিশালী ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট’ ব্যবহার করা হতে পারে, যা অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার জন্য তৈরি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা ‘বাজুকা’ হলো একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক আইন, যা অন্য কোনো দেশের অন্যায্য অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয়। মূলত সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটি একটি ‘সর্বশেষ অস্ত্র’ হিসেবে কাজ করে, যা কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে কার্যকর করা হয়।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বাজারেও। গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে ইউরোপীয় শেয়ারবাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস আজ ব্রাসেলসে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোলস লুন্ড পোলসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্টের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলার কৌশল গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথে যুক্তরাষ্ট্র যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, “এ ধরনের গুরুতর বিষয় শান্ত আলোচনা ও মিত্রদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত।” একই সঙ্গে তিনি শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরোধিতা করেন।
অন্যদিকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক বার্তায় ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেন। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রাশিয়া বা চীন থেকে রক্ষা করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে এই বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুতর সংকটগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে এখন তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।



