যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কর্মকর্তাদের গুলিতে দ্বিতীয় ব্যক্তি আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় একজন ভেনেজুয়েলান নাগরিক পায়ে গুলিবিদ্ধ হন, যার জেরে শহরজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় এই গুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে আইস একটি লক্ষ্যভিত্তিক ট্রাফিক স্টপের সময় ওই ব্যক্তিকে আটক করার চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে ওই ব্যক্তি প্রথমে গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং পরে হেঁটে পালান। পরে সংঘর্ষের সময় একাধিক ব্যক্তি আইস কর্মকর্তাকে আক্রমণ করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়া হয়। এতে ওই ভেনেজুয়েলান নাগরিকের পায়ে গুলি লাগে।
এই ঘটনাটি ঘটেছে সেই স্থান থেকে মাত্র সাড়ে চার মাইল দূরে, যেখানে গত সপ্তাহে রেনে নিকোল গুড নামে তিন সন্তানের এক মা আইস কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, ওই নারী তার গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাকে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য কর্মকর্তারা সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে সরে যাচ্ছিলেন।
দ্বিতীয় গুলির ঘটনার পরপরই মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসে এবং আইস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও ফেডারেল এজেন্টরা টিয়ার গ্যাস, ফ্ল্যাশব্যাং ও পেপার বুলেট ব্যবহার করে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের দিক থেকে আতশবাজি ও তুষার নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানালেও আইসকে শহর ও অঙ্গরাজ্য ছেড়ে যাওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আইস যে আচরণ করছে তা ঘৃণ্য ও অসহনীয়। ফেডারেল এজেন্টদের এই উপস্থিতি শহরে অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।”
এদিকে মিনেসোটা ব্যুরো অব ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশন (বিসিএ) সর্বশেষ গুলির ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। আগের গুলির ঘটনায় এফবিআই রাজ্য তদন্তকারীদের সরিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
গভর্নর টিম ওয়ালজ মিনেসোটায় চলমান পরিস্থিতিকে “সংগঠিত নৃশংসতার একটি অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আদালতের মাধ্যমেই এর জবাব দেওয়া হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরের শুরু থেকে মিনেসোটায় দুই হাজারের বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেন্টাগন মিনিয়াপোলিসে সরকারের আইনি সহায়তার জন্য সামরিক আইনজীবী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মিনিয়াপোলিসে টানা দুইটি গুলির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।



