যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ওয়াশিংটন এবং প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপসহ “খুব শক্ত বিকল্প” বিবেচনা করা হচ্ছে। রোববার রাতে ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং আমরা কিছু অত্যন্ত শক্ত বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছি। শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তিনি জানান, ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির পর আলোচনায় বসতে যোগাযোগ করেছে এবং একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “বৈঠকের আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।”
এদিকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ইরানও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, ইরানে কোনো হামলা হলে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় গত ২৮ ডিসেম্বর, যখন তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা ইরানি রিয়ালের মূল্যপতনের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। দ্রুতই তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদে রূপ নেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভে নিহত সাধারণ মানুষের সংখ্যা সরকারিভাবে জানানো হয়নি। বিদেশভিত্তিক বিরোধী কর্মীরা দাবি করেছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং এর মধ্যে শত শত বিক্ষোভকারী রয়েছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে দেশজুড়ে তিন দিনের বেশি সময় ধরে চলমান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইরানে কার্যত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরান বিষয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচ্য বিকল্পগুলোর মধ্যে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা জোরদার এবং সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অনলাইন সহায়তা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি ইরানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের বিষয়ে ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন। মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ইতোমধ্যে ইরানে সীমিতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ ও ভেনেজুয়েলা ইস্যুতেও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র “দীর্ঘমেয়াদি সমাধান” চায় এবং ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান পরিস্থিতি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।



