মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরানের চলমান গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। দেশটিতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সহিংস বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের মধ্যে ইরানের পার্লামেন্ট রোববার (১১ জানুয়ারি) এক বিশেষ অধিবেশনে বসে। অধিবেশনে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ এবং ইসরায়েল ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে গালিবাফ পুলিশ ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—বিশেষ করে স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ বাহিনীর—ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়াদের “সবচেয়ে কঠোরভাবে” শাস্তি দেওয়া হবে। ইসরায়েলকে তিনি ‘দখলকৃত ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, হুমকির কোনো “স্পষ্ট লক্ষণ” দেখা দিলে ইরান আগাম পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, বিক্ষোভ-সংক্রান্ত সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ১১৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধের সময়সীমা ৬০ ঘণ্টা ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে নেটব্লকস। সংস্থাটি বলেছে, এই ধরনের তথ্য-নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য মারাত্মক হুমকি।
হুমকি ও দমন-পীড়নের মধ্যেও রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের পুনাক এলাকায় মানুষ জড়ো হয়ে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। মাশহাদ ও কেরমান শহরেও বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতির খবর মিলেছে। বিশেষ করে শিয়া মুসলমানদের পবিত্র নগরী মাশহাদে বিক্ষোভের ঘটনা দেশটির শাসকগোষ্ঠীর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ‘ঈশ্বরের শত্রু’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা দেশটির আইনে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। অন্যদিকে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি আবারও জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানি রিয়ালের ভয়াবহ অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চাপের মধ্যে থাকা ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে গভীর সংকটে, যা বিক্ষোভকে আরও তীব্র করেছে।



