যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৭ অর্থবছরের জন্য দেশটির সামরিক বাজেট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। এই প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬ সালের ৯০১ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি, যা নিজেই ২০২৫ সালের বাজেটের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি ছিল।
এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “সিনেটর, কংগ্রেস সদস্য, মন্ত্রিসভার কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ ও কঠিন আলোচনার পর আমি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, বর্তমান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও বিপজ্জনক সময়ে আমাদের দেশের স্বার্থে ২০২৭ সালের সামরিক বাজেট ১ ট্রিলিয়ন নয়, ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হওয়া উচিত।” তাঁর মতে, এই বাজেট যুক্তরাষ্ট্রকে একটি “আদর্শ সেনাবাহিনী” গড়ে তুলতে সহায়তা করবে এবং যেকোনো শত্রুর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর প্রশাসনের শুল্কনীতি (ট্যারিফ) সরকারের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যার ফলে এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশ থেকে আরোপিত শুল্কের মাধ্যমে অর্জিত “অকল্পনীয় রাজস্ব” না থাকলে তিনি বাজেট ১ ট্রিলিয়ন ডলারেই সীমাবদ্ধ রাখতেন।
এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে “বিভিন্ন বিকল্প” খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই বাজেট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গে চলমান অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, এত বড় সামরিক ব্যয় দেশটির শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ কমাতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্ত নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা তীব্র করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের প্রস্তাব ট্রাম্পের “শক্তির মাধ্যমে শান্তি” নীতির প্রতিফলন হলেও, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।



