সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ২০২৫–২৬ অ্যাশেজ সিরিজ ৪–১ ব্যবধানে জয় করেছে অস্ট্রেলিয়া। ৪–৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত গড়ানো এই ম্যাচের মাধ্যমে সিরিজের পর্দা নামল অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে পারফরম্যান্সে।
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রানে অলআউট হয় এবং দ্বিতীয় ইনিংসে করে ৩৪২ রান। জবাবে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৫৬৭ রান তোলে। ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে।
ইংল্যান্ডের হয়ে জো রুট তাদের প্রথম ইনিংসে ১৬০ রান ও দ্বিতীয় ইনিংসে জেকব বেথেল ১৫৪ রান করেন। বল হাতে ব্রেডন কার্স ও জোশ টঙ্গ ছিলেন ইংল্যান্ডের সেরা বোলার।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তাদের প্রথম ইনিংসে ট্র্যাভিস হেড ১৬৩ রান ও স্টিভ স্মিথ ১৩৮ রান করেন। মাইকেল নেসার ও মিচেল স্টার্ক দুই ইনিংস মিলিয়ে পাঁচটি করে উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে চাপে রাখেন।
চতুর্থ ইনিংসে ইংল্যান্ড কয়েকটি দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলে। তবে পঞ্চম দিনের লাঞ্চের কিছুক্ষণ পরই অস্ট্রেলিয়া জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হন ট্র্যাভিস হেড।
আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫–২০২৭ চক্রের অংশ এই অ্যাশেজ সিরিজটি ২১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম তিন টেস্ট জিতে অস্ট্রেলিয়া দ্রুততম সময়ে (২০০২–০৩-এর পর) অ্যাশেজ ধরে রাখে। চতুর্থ টেস্টে ইংল্যান্ড মেলবোর্নে জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ায়।
শীর্ষ পরিসংখ্যান-
সর্বোচ্চ রান: ট্রাভিস হেড (অস্ট্রেলিয়া) – ৬২৯ রান (গড় ৬২.৯০)
সর্বোচ্চ উইকেট: মিচেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া) – ৩১ উইকেট (গড় ১৯.৯৩)
প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: মিচেল স্টার্ক – ৩১ উইকেট ও ১৫৬ রান
টেস্টভিত্তিক ফলাফল-
১ম টেস্ট (পার্থ): অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জয়—স্টার্কের ৭/৫৮ ও হেডের দ্রুত সেঞ্চুরি নজরকাড়া।
২য় টেস্ট (ব্রিসবেন): গাব্বায় প্রথম দিন-রাত অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার ৮ উইকেট জয়—মাইকেল নেসারের প্রথম পাঁচ উইকেট।
৩য় টেস্ট (অ্যাডিলেড): অস্ট্রেলিয়া ৮২ রানে জিতে সিরিজ নিশ্চিত।
৪র্থ টেস্ট (মেলবোর্ন): ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়—জশ টাংয়ের পাঁচ উইকেট, হ্যারি ব্রুকের দ্রুত ৩,০০০ রান।
৫ম টেস্ট (সিডনি): অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়—খাওয়াজার বিদায়ী ম্যাচ ও বেথেলের প্রথম সেঞ্চুরি।
সব মিলিয়ে, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দৃঢ় ব্যাটিংয়ে অ্যাশেজে নিজেদের আধিপত্য আবারও প্রমাণ করল অস্ট্রেলিয়া।



