যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে গেছে। মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তাকে রাজধানী কারাকাস থেকে আটক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির শাসনব্যবস্থা পরিচালনায় ভূমিকা নেবে এবং তেলসমৃদ্ধ এই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তবে কীভাবে এবং কতদিন এই নিয়ন্ত্রণ চলবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি তিনি।
এ ঘটনায় ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে “অপহরণ” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং মাদুরোকেই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করেছেন। তিনি মাদুরোর অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, একটি সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে জোরপূর্বক আটক করার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের জন্য “বিপজ্জনক নজির” সৃষ্টি করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চীন, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও একাধিক দেশ এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই পদক্ষেপ নিয়ে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু রাজনীতিক ও নাগরিক একে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে সমালোচনা করেছেন।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। খাদ্য ও জ্বালানির যোগান নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, অনেক জায়গায় দোকান ও সুপারমার্কেটে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরো আটক হলেও দেশটিতে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রূপান্তর এখনো অনিশ্চিত।



