যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ব্যাপক সামরিক হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে “গ্রেপ্তার করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে”। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা ভেনেজুয়েলার সরকার স্বাধীনভাবে তথ্য নিশ্চিত করেনি।
শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ একাধিক রাজ্যে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও নিম্নউড়ন্ত যুদ্ধবিমান দেখা যায়। লা কার্লোটা বিমানবন্দর, ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি এবং সরকারি স্থাপনাগুলোর আশপাশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলার পর ভেনেজুয়েলার সরকার একে যুক্তরাষ্ট্রের “সামরিক আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যা দিয়ে দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ বলেছেন, দেশটি বিদেশি সেনাদের উপস্থিতি প্রতিহত করবে এবং হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার হতাহতদের তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বলছে, মাদক পাচার দমনের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ করে আসছে, যদিও মাদুরো তা বরাবরই অস্বীকার করেছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভেনেজুয়েলার উপকূলে যুক্তরাষ্ট্র ২০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাশিয়া, ইরান ও কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইন ও ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। কলম্বিয়া সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং সম্ভাব্য শরণার্থী সংকটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর কথিত ‘গ্রেপ্তার’ ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা হলেও দেশটির সামরিক বাহিনী ও ক্ষমতাসীন চাভিস্তা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এখনো অনিশ্চিত। তারা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দেশটিকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা কিংবা গৃহসংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।



