ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেছে, দেশটির বিরুদ্ধে চলমান সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আসলে লাতিন আমেরিকা জুড়ে “মহাদেশগত আধিপত্যের” প্রথম ধাপ।
জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার স্থায়ী প্রতিনিধি সামুয়েল রেইনালদো মনকাদা আকোস্তা বলেন, “এটি শুধু ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে নয়। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুরো মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত।” তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেই এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার অনুরোধে ডাকা জরুরি বৈঠকে মনকাদা যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ও নৌ অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলান জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যেগুলোকে লাতিন আমেরিকার আইন বিশেষজ্ঞরা “বিচারবহির্ভূত হত্যা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
মনকাদা আরও বলেন, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইনও লঙ্ঘন করে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধকে তিনি “ভেনেজুয়েলা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অবরোধ” বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি এবং ভেনেজুয়েলার তেল এসব কার্টেলের অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, মাদক চোরাচালান দমনে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।
বৈঠকে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া এই পদক্ষেপকে “আগ্রাসন” এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য লাতিন আমেরিকান দেশের বিরুদ্ধে শক্তি ব্যবহারের নজির হতে পারে বলে সতর্ক করেন। চীনের প্রতিনিধি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদক পাচারের অজুহাতে তার সরকারকে উৎখাত ও দেশের বিশাল তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।



