ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা ডেনমার্কের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন বিশেষ মার্কিন দূত নিয়োগ দেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার বক্তব্য দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কোপেনহেগেন।
সোমবার ডেনমার্ক সরকার জানায়, গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে বিশেষ দূত নিয়োগ এবং তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এ সিদ্ধান্তকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেন এবং ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান।
রোববার ট্রাম্প লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে ল্যান্ড্রি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা বলেন, যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “কোনো দেশ অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে পারে না। আমাদের যৌথ ভূখণ্ডের অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করি।” নিলসেন আরও বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডবাসীরাই নির্ধারণ করবে।”
এই ইস্যুতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক যৌথ বার্তায় বলেন, “ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বিরল খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বরফ গলার ফলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হচ্ছে। এ ছাড়া রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্ষেপণাস্ত্র পথের দিক থেকেও গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডের বেশিরভাগ মানুষ ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে আগ্রহী নয়—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে। তবুও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ডেনমার্ক ও ইউরোপে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।



