অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে পরিত্যক্ত কালান্দিয়া বিমানবন্দরের স্থানে ৯,০০০ নতুন আবাসিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলি শান্তি আন্দোলনকারী সংগঠন পিস নাউ জানিয়েছে, বুধবার জেরুজালেম জেলা পরিকল্পনা ও নির্মাণ কমিটিতে তথাকথিত ‘আতারোত’ বসতি প্রকল্পের নকশা অনুমোদনের জন্য আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, এই বসতি প্রকল্পটি এমন একটি ঘনবসতিপূর্ণ ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মধ্যে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা রামাল্লাহ, কাফর আকাব, কালান্দিয়া শরণার্থী শিবির, আর-রাম, বেইত হানিনা ও বির নাবালাকে সংযুক্ত করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে আশপাশের ফিলিস্তিনি এলাকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে এবং একটি স্বতন্ত্র ও সংলগ্ন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পিস নাউ একে “ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা” আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, এটি কার্যকর হলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন পাশাপাশি রাষ্ট্র হিসেবে সহাবস্থানের সম্ভাবনা কার্যত নষ্ট হয়ে যাবে। সংগঠনটির মতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি সরকার শান্তি ও সমঝোতার সব সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে।
এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। পূর্ব জেরুজালেমের উত্তর-পশ্চিমে বিদ্দু শহরে ‘অনুমতিপত্র না থাকার’ অজুহাতে ফিলিস্তিনি ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। রামাল্লাহর আইন ইয়াবরুদ গ্রামে বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের যানবাহনে আগুন দিয়েছে এবং বর্ণবাদী স্লোগান লিখেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো ও শীতকালীন ঝড় পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ভারী বৃষ্টি ও ঠান্ডায় বহু ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ধসে পড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চরম শীতের কারণে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় আশ্রয় ও ত্রাণ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বসতি সম্প্রসারণ, ধ্বংসযজ্ঞ ও অবরোধ—এই সবকিছু মিলিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রচেষ্টা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।



