বৈজ্ঞানিক মহলে নজর কাড়ছে “স্পাইক” নামে পরিচিত এক বিরল ডাইনোসরের কঙ্কাল, যা বৃহস্পতিবার ক্রিস্টিজ নিলামঘরে উঠতে যাচ্ছে। পশ্চিম উত্তর আমেরিকার প্রাচীন জলাভূমি অঞ্চলে প্রায় ৬৮ মিলিয়ন বছর আগে বিচরণকারী এই প্রাণীর কঙ্কাল এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম সম্পূর্ণ কেনাগনাথিড (caenagnathid family) নমুনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্রিস্টিজের বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগের প্রধান জেমস হাইসলপ বলেন, “এ ধরনের কিছু আমি আগে কখনও দেখিনি। এটি একেবারে নতুন, গবেষণার জন্য মূল্যবান এবং সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।”
২০২২ সালে আবিষ্কৃত স্পাইককে ৩০ থেকে ৫০ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন দাম আরও দ্বিগুণ হতে পারে। কারণ এ ধরনের কঙ্কালের প্রতি এখন বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।
স্পাইকের বিশেষত্ব হলো এর ধারালো খুলি, শক্তিশালী শরীর এবং দৌড়ানোর সক্ষমতা – অনুমান করা হয় এটি ঘণ্টায় ৪০ মাইল পর্যন্ত গতি তুলতে পারত। আকারে এটি একটি বড় উটপাখি বা ইমিয়োর (emu) চেয়েও সামান্য বড় ছিল এবং দাঁতহীন, পালকযুক্ত এই প্রজাতিটি ডাইনোসরের শেষ যুগের প্রাণীদের অন্যতম।
তবে ব্যক্তিগত সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্ম বিক্রি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝে উদ্বেগ রয়েছে। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক সুজানাহ মেইডমেন্ট বলেন, “যদি এটি সত্যিই নতুন কোনো প্রজাতি হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই এটি সংগ্রহ করতে আগ্রহী। কিন্তু নিলামের উচ্চমূল্য আমাদের সক্ষমতার বাইরে।”
অপরদিকে ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের কারণে বহু জীবাশ্ম উদ্ধার হয় এবং গবেষণার সুযোগ তৈরি হয় বলে মত দিয়েছেন বিভিন্ন গ্যালারি মালিকরা। লন্ডনের ডেভিড অ্যারন গ্যালারির পরিচালক স্যলোমন অ্যারন জানান, তারা প্রায়ই জাদুঘরগুলোর জন্য জীবাশ্ম সংগ্রহে সহায়তা করেন।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী শেষে স্পাইকের পরবর্তী গন্তব্য ঠিক হবে ১১ ডিসেম্বরের নিলামে। ক্রিস্টিজ আশা করছে নতুন মালিকও এ বিরল জীবাশ্মটি গবেষণা ও জনদর্শনের সুযোগ করে দেবেন।



