ফিফা আরব কাপ ২০২৫–এর গ্রুপ এ থেকে হট ফেভারিট কাতার বিদায় নিয়েছে, অন্যদিকে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফিলিস্তিন। টুর্নামেন্টের রোববারের শেষ গ্রুপ ম্যাচগুলোতে নাটকীয় দৃশ্য দেখা যায় – কাতার ৩-০ গোলে টিউনিশিয়ার কাছে হেরে ছিটকে যায়, আর ফিলিস্তিন সিরিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করে।
আল বাইত স্টেডিয়ামে নিজেদের টিকে থাকার ম্যাচে কাতার শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে। ম্যাচের ১৬ মিনিটে গোলরক্ষক মেশাল বারশামের ভুলে মোহামেদ আলি বেন রোমধানে সহজ গোল করে টিউনিশিয়াকে এগিয়ে দেন। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে ছিল প্রাণহীন। আকরাম আফিফের নেতৃত্বে কাতারের ফরোয়ার্ডরা সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬২ মিনিটে কর্নার থেকে ইয়াসিন মেরিয়াহ হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর টিউনিশিয়ার সেফেদ্দিন জাজিরি লাল কার্ড দেখলেও কাতার সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারে না। শেষ দিকে মোহামেদ বেনালি আরও একটি গোল করে টিউনিশিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। তবে অপর ম্যাচের ফলাফলে দুই দলই শেষ পর্যন্ত বিদায় নেয়।
অন্যদিকে, আল রায়ানের এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে ফিলিস্তিন–সিরিয়া ম্যাচ শেষে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। ০-০ ড্র নিশ্চিত হওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড়ই আবেগে ভেঙে পড়েন—কারণ এ ফলেই উভয় দল কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
ফিলিস্তিনের জন্য এটি ইতিহাস; গ্রুপের প্রথম ম্যাচে কাতারকে হারিয়ে চমক দেখানোর পর টিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ পিছিয়ে থেকেও ড্র করে তারা। সিরিয়াও টিউনিশিয়াকে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল। সমান পয়েন্ট নিয়ে মাঠে নামা দুই দলেরই শেষ ম্যাচে একটি করে পয়েন্টই ছিল পরবর্তী ধাপে ওঠার চাবিকাঠি।
ম্যাচ শেষে ফিলিস্তিনি খেলোয়াড়রা পতাকা, কেফিয়েহ হাতে উদযাপনে মেতে ওঠেন। গাজা–জন্মানো ডিফেন্ডার মোহাম্মদ সালেহসহ অনেকেই ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার পতাকা হাতে ভক্তদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দুটি জাতির প্রতিনিধিদের এই সাফল্য দর্শক ও বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে বড় নাড়া দিয়েছে।
ফিফা র্যাংকিংয়েও দুই দলের অবস্থান বড় চমকের জন্ম দিয়েছে—ফিলিস্তিন ৯৬তম, সিরিয়া ৮৭তম, সেখানে কাতার ৫১ নম্বরে এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল টিউনিশিয়া ৪০তম স্থানে। কাতার ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া আরব দলের মধ্যে অন্যতম হলেও আরব কাপে তাদের পথ থেমে গেল গ্রুপ পর্বেই।
ফিলিস্তিন ও সিরিয়া—ইতিহাসে প্রথমবার একই সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে—এখন টুর্নামেন্টে নতুন স্বপ্ন দেখছে তাদের সমর্থকেরা।



