রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি স্থাপনায় ৭০০-র বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বৃহৎ রাতব্যাপী হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, মোট ৬৫৩টি ড্রোন এবং ৫১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার মধ্যে ৫৮৫টি ড্রোন ও ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছে এবং ২৯টি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরণ —যা রিয়্যাক্টর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) সতর্ক করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “জ্বালানি স্থাপনাগুলিই ছিল রাশিয়ার প্রধান টার্গেট”। একটি ড্রোন হামলায় কিয়েভ অঞ্চলের ফাস্টিভ রেলস্টেশন সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প স্থাপনা ও সেগুলোকে শক্তি জোগানো অবকাঠামোই লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং সব লক্ষ্য সফলভাবে ভেদ করা হয়েছে।
এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে জেলেনস্কির ফোনালাপকে “গঠনমূলক” হিসেবে উল্লেখ করলেও, দুই পক্ষই স্বীকার করেছে—যুদ্ধবন্ধের অগ্রগতি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে রাশিয়ার সদিচ্ছার ওপর।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ডনেস্ক অঞ্চলের পোক্রোভস্ক শহরের দিকে তারা অগ্রসর হচ্ছে এবং পার্শ্ববর্তী মাইর্নোহরদ প্রায় ঘিরে ফেলেছে। নভেম্বর মাসে রাশিয়া প্রায় ৫০৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে নেয়।
ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতারা সোমবার লন্ডনে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাশিয়ার “বাড়তি উসকানি”র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “শান্তি নিশ্চিত করতে রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখা জরুরি”।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) জানিয়েছে, ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শান্তি আলোচনার কারণে স্থগিত করা যাবে না—শুধুমাত্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে সাময়িক স্থগিত হতে পারে।
ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান তৃতীয় দফা আলোচনার মাঝেই এই হামলা হয়। যদিও আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবুও চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে দুপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।



