রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইউরোপ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চায়, তবে মস্কো “সম্পূর্ণ প্রস্তুত”। তিনি দাবি করেন, এমন যুদ্ধে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর পরাজয় হবে “এতটাই চূড়ান্ত” যে পরে শান্তি আলোচনার জন্যও কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
মঙ্গলবার মস্কোতে VTB ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ‘রাশিয়া কলিং!’–এ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুতিন এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাশিয়া যুদ্ধ চায় না, তবে ইউরোপ যদি আগ্রাসন শুরু করে, “উত্তর হবে দ্রুত ও ব্যাপক।”
প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে উত্তেজনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো বহুবার সতর্ক করেছে—যদি রাশিয়া ইউক্রেনে জয়ী হয়, তবে মস্কো ন্যাটো সদস্য কোনো দেশে হামলা চালাতে পারে। পুতিন অবশ্য এসব দাবি “অবাস্তব প্রচারণা” বলে উড়িয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান “পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়”, বরং “সার্জিক্যাল অপারেশন”—যা ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে আর হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান প্রক্রিয়া ব্যাহত করছে ইউরোপীয় দেশগুলো—এমন অভিযোগও তোলেন পুতিন।
তার দাবি, ইউরোপ এমন প্রস্তাব দিচ্ছে যেগুলো মস্কোর কাছে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য”, এবং পরে রাশিয়াকে শান্তি চাইছে না বলে দোষারোপ করা হচ্ছে।
পুতিন বলেন, ইউরোপ যুদ্ধের পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে তারা নিজেদের শান্তি আলোচনার বাইরে ঠেলে দিয়েছে।
রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’–এর তেল ট্যাংকারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জবাবে পুতিন হুমকি দেন—প্রয়োজনে ইউক্রেনের সমুদ্রপথের প্রবেশাধিকার কেটে দেওয়া হতে পারে।
পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে রাশিয়া–ইউরোপ সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধে মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ক্রমেই বাড়ছে।



