ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ২১ নভেম্বর মাদুরো ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিটের এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে জানান, মাদুরো ও তার পরিবারকে সাত দিনের মধ্যে ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করতে হবে। উল্লেখযোগ্য যে, এই সময়সীমা ২৮ নভেম্বর শেষ হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে মার্কিন নৌবাহিনী ভেনেজুয়েলার আশপাশে বেশ কয়েকটি নৌ অভিযান পরিচালনা করেছে এবং “মাদক-নৌকা” লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকার এই পদক্ষেপকে ঔপনিবেশিক হুমকি বলে নিন্দা করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে মাদুরো সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র ও নেশা দ্রব্য পাচারের যোগসূত্র রয়েছে, যদিও এটাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভালোভাবে নিচ্ছে না।
মার্কিন প্রশাসন গত মাস থেকে ক্যারিবীয় সাগরে যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েন বাড়িয়েছে, যা অঞ্চলটিকে নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত করেছে। এটি ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতিরও অংশ হতে পারে।
তবে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন এখনো অনিবার্যের পর্যায়ে নিয়ে যায়নি। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের ব্যয় বহন করতে হবে এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার ভৌগোলিক অবস্থান ও সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি স্থলযুদ্ধে নামতে বাধ্য করতে পারে।
যদিও উত্তেজনা কমছে না। “মাদক-নৌকা” হামলা, আকাশসীমা নিয়ে বিতর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বক্তব্য মিলিয়ে সীমিত সংঘর্ষ বা নৌ–অভিযানের ঝুঁকি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো শিগগিরই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক চাপ বজায় রাখবে, যা আকাশ নজরদারি, নৌবাহিনীর আঘাত, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপের সমন্বয়ে হতে পারে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে সমর্থন সমাবেশ বাড়িয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, দেশ বিদেশি আগ্রাসনের সামনে নত হবে না এবং জনগণকে “জাতীয় ঐক্যবদ্ধ” থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি ও সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও বন্ধ হয়নি। আন্তর্জাতিক চাপ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে। বর্তমানে সবচেয়ে সম্ভাব্য চিত্র—পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং সীমিত সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি।



