রাশিয়া জানিয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক্স কেন্দ্র পোকরোভস্ক তাদের বাহিনী পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। প্রায় দুই বছর অবরোধ পরিস্থিতিতে থাকা এই শহরটি দখলের খবর সোমবার ক্রেমলিনের টেলিগ্রাম পোস্টে প্রকাশ করা হয়। রুশ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ আরও দাবি করেন, খারকিভ অঞ্চলের ভভচানস্ক শহরও রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে গেছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ফ্রন্টলাইন কমান্ড সেন্টারে সফরের সময় গেরাসিমভ তাকে এ খবর জানান। পোকরোভস্ক ডোনেৎস্ক অঞ্চলের একটি বড় পরিবহনকেন্দ্র, যা রাশিয়া ২০২২ সালের পরে একতরফাভাবে সংযুক্ত ঘোষণা করা চার অঞ্চলের একটি।
একসময় প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস থাকা শহরটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রুশ ড্রোন, গোলা ও বিমান হামলায় ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। যদিও ইউক্রেন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পোকরোভস্ক পতনের কথা স্বীকার করেনি, তবে রুশ বাহিনী শহরে পতাকা উত্তোলনের ভিডিও প্রচার করছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
পুতিন রুশ বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “ক্ৰাসনোআর্মেইস্ক (পোকরোভস্কের রুশ নাম) অঞ্চলে সেনাদের কৃতিত্ব আমাদের বড় সাফল্য।”
পোকরোভস্ক সংকটের মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে যুদ্ধশেষ শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন। প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করাই সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
জেলেনস্কি স্পষ্ট করে জানান, কোনো শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়াকে ভূখণ্ড “উপহার” দেওয়া চলবে না। তার উপদেষ্টা রুস্তেম উমেরভ আল জাজিরাকে বলেন, “যে দেশ হামলা চালাবে সে যদি জমি পেয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক আইন বলে কিছুই থাকবে না।”
প্রকাশিত মার্কিন খসড়া শান্তি প্রস্তাবে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ না নেওয়ার শর্ত, সেনাসংখ্যায় সীমা এবং রাশিয়ার দখল করা এলাকা রাখার সুপারিশ—যা কিয়েভ ও বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশের তীব্র আপত্তির কারণ হয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রেও উত্তেজনা বাড়ছে। সোমবার সকালে দ্নিপ্রো শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৪ জন নিহত এবং ৪৩ জন আহত হয়েছে। হামলায় প্রশাসনিক ভবন, স্কুল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বহু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ডোনেৎস্ক অঞ্চলের ক্লিনোভেসহ আরও কিছু এলাকায় তারা অগ্রগতি অর্জন করেছে। অপরদিকে, ইউক্রেন বলছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ১,০৬০ রুশ সেনা ও বহু সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে। উভয় পক্ষের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।



