ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার দীর্ঘমেয়াদি দুর্নীতি মামলাগুলোর প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ ক্ষমা (pardon) চাইেছেন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
হারজগের কার্যালয় জানিয়েছে, এটি “অস্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব-বাহী” একটি অনুরোধ, এবং সকল আইনি মতামত পর্যালোচনা করার পর প্রেসিডেন্ট সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে তিনটি পৃথক দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়—ঘুষ গ্রহণ, প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ও তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু বিলিয়নিয়ারদের কাছ থেকে প্রায় ২.৬ লাখ ডলারের বিলাসপণ্য গ্রহণ করেছেন রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে। এছাড়া, দুইটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে অনুকূল কভারেজ পাওয়ার জন্যও তিনি আলোচনা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নেতানিয়াহু সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
ক্ষমার আবেদন দাখিলের পর রাতেই তেল আবিবে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ ইসরায়েলিরা জড়ো হন। প্রতিবাদকারীরা বলেন, দোষ স্বীকার না করে, অনুশোচনা প্রকাশ না করে এবং রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে না দাঁড়িয়ে কোনোভাবেই ক্ষমা দেওয়া উচিত নয়।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া একদল নাগরিক “ক্ষমা = কলা প্রজাতন্ত্র” শ্লোগান তোলেন। কেউ কেউ কারাবন্দী পোশাক পরে নেতানিয়াহুর প্রতীকী চরিত্রে অংশ নেন।
এই আবেদন এমন সময় এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হারজগকে প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে ক্ষমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) গাজা যুদ্ধের জন্য নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে (২০২৪)।
বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, “দোষ স্বীকার, অনুশোচনা এবং অবসর ছাড়া ক্ষমা দেওয়া যায় না।” অন্যদিকে ডানপন্থী মন্ত্রীরা নেতানিয়াহুর পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের দাবি, বিচারব্যবস্থা তাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ হয়রানি করছে।
ইসরায়েলের আইনে সাধারণত ক্ষমা শুধুমাত্র মামলার কার্যক্রম শেষ ও দণ্ড ঘোষণার পরই দেওয়া হয়। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমার আবেদন দাখিল করলেও বিচার প্রক্রিয়া থেমে যাবে না।



