মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা করেছেন যে ভেনিজুয়েলা ও এর আশপাশের আকাশসীমাকে “সম্পূর্ণভাবে বন্ধ” বিবেচনা করা উচিত। তার এই বক্তব্যকে ভেনিজুয়েলার সরকার “ঔপনিবেশিক হুমকি” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে লেখেন, “সব এয়ারলাইনস, পাইলট, মাদক পাচারকারী ও মানবপাচারকারীদের উদ্দেশ্যে বলছি—ভেনিজুয়েলার উপরের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হিসেবে বিবেচনা করুন।” তবে তিনি আর কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এ ঘোষণা “অবৈধ, অযৌক্তিক ও জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন” বলে মন্তব্য করেছে। তাদের দাবি, এটি ভেনিজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।
গত সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) ভেনিজুয়েলার আকাশসীমায় “বিপজ্জনক পরিস্থিতি” নিয়ে সতর্ক করেছিল। এর পরই দক্ষিণ আমেরিকার ছয়টি বড় এয়ারলাইন ভেনিজুয়েলায় ফ্লাইট স্থগিত করে। এর প্রতিক্রিয়ায় কারাকাস ওই এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে, যুক্তরাষ্ট্রের “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে” সহযোগিতার অভিযোগ তুলে।
মার্কিন প্রশাসন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্যারিবীয় সাগরে ব্যাপক সামরিক মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরীও। ওয়াশিংটনের দাবি—এ পদক্ষেপ মাদক পাচার রোধের অংশ। তবে কারাকাসের অভিযোগ, এই প্রচেষ্টা প্রকৃতপক্ষে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
মার্কিন বাহিনী সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত সমুদ্রপথে মাদক পাচারের অভিযোগে ২০টির বেশি ভেনিজুয়েলান নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যাতে ৮০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এই অভিযানে “বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড” হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ও মাদুরো সম্ভাব্য একটি বৈঠক নিয়ে কথা বলেছেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন কখনো কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, আবার কখনো আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে—যা পরিস্থিতিকে আরো অনিশ্চিত করে তুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে আকাশসীমা বন্ধের মতো পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি পণ্য আমদানি বাধাগ্রস্ত হবে, যা আগেই সংকটাপন্ন ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দেবে।
ভেনিজুয়েলার গবেষক ও অধ্যাপকেরা এটিকে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, “এটি সরকারের বিরুদ্ধে নয়—মানুষের বিরুদ্ধে আঘাত।



