ইউরোপের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধ বন্ধ ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। জাতিসংঘ ঘোষিত ইন্টারন্যাশনাল ডে অব সলিডারিটি উইথ দ্য প্যালেস্টিনিয়ান পিপল উপলক্ষে শনিবার এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মৃতের সংখ্যা ৭০,০০০ ছাড়িয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ৫০,০০০ মানুষ রাস্তায় নামেন। তারা “গাজা, গাজা, প্যারিস তোমার সঙ্গে আছে” এবং “গাজা থেকে প্যারিস, প্রতিরোধ”—এমন স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “গণহত্যা” চালানোর অভিযোগ তোলেন এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানায়। ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সংহতি সমিতির নেত্রী আনা তুইয়োঁ বলেন, “সাত সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতি চলছে বলা হলেও বাস্তবে প্রতিদিনই ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করছে। মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে।”
প্যারিস পুলিশ জানায়, প্রায় ৮,৪০০ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিলেও আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী সংখ্যা ছিল তার ছয়গুণেরও বেশি।
একই দিনে লন্ডন, জেনেভা, রোম ও লিসবনেও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। লন্ডনের আয়োজকরা জানান, প্রায় ১,০০,০০০ মানুষ সেখানে সমবেত হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়। রোমে প্রধান বিক্ষোভে অংশ নেন জাতিসংঘের বিশেষ রাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানেজ এবং জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গ। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “গণহত্যা” চালানোর অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ব্রোকরকৃত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল সাময়িকভাবে গাজার ভেতরে ‘হলুদ রেখা’ পর্যন্ত সরে গেলেও তারা এখনো এলাকার অর্ধেকের বেশি অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েল নতুন হামলা চালাচ্ছে এবং জরুরি সহায়তার প্রবেশ ঠেকাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে অন্তত ৫০০টি লঙ্ঘন নথিবদ্ধ হয়েছে, যাতে ৩০০–এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “এত মানুষের মৃত্যু, বারবার বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সাহায্য বাধাগ্রস্ত হওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
গাজা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক সংহতির বার্তা সত্ত্বেও স্থানীয় মানুষের জীবন এখনো চরম দুর্ভোগে ভরা। অনেকে এখনো তাবুতে বাস করছেন, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট চরমে, আর শিশুরা শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছে যে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় “গণহত্যা” চালিয়ে যাচ্ছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।
ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক চাপ এবং প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ছাড়া ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন মানাতে বাধ্য করা যাবে না। তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।



